প্রশ্নফাঁস রুখতে আরও কড়া প্রশাসন। আগামী ২১ জুন ফের নিট-পিজি হওয়ার কথা। তার আগে প্রশ্নের নিরাপত্তা নিয়ে কোনওরকম ঝুঁকি নিতে চাইছে না কেন্দ্র। আর তাই ভারতে আপাতত টেলিগ্রাম অ্যাপ ব্যান করা হল। পরীক্ষা শেষ হওয়া না পর্যন্ত টেলিগ্রামের উপরে এই নিষেধাজ্ঞা থাকবে বলে জানা গিয়েছে। এনটিএ কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। নিট পরীক্ষা নিয়ে নানারকম জালিয়াতি রুখতে এবং সর্তক থাকার জন্য কেন্দ্রের তরফে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এনটিএ সুপারিশের ভিত্তিতে কেন্দ্র এই পদক্ষেপ করেছে। এনটিএ জানিয়েছে, ২১ জুন পুনরায় নিট-পিজি পরীক্ষা হবে। এই বিধিনিষেধ পরীক্ষার পরের দিন অর্থাৎ ২২ জুন পর্যন্ত গোটা দেশে কার্যকর থাকবে। নিটের প্রশ্নপত্র পরীক্ষার আগে আর বাইরে পাওয়া যাবে না। টেলিগ্রামে যেসব চ্যানেল প্রশ্ন ফাঁসের দাবি করেছে, তারা পরীক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।
তবে অ্যাপটিতে নিষেধাজ্ঞা জারির পরে এনটিএ জানিয়েছে, টেলিগ্রাম ব্যবহারকারী লক্ষ লক্ষ নাগরিকের অনেক সমস্যার মুখে পড়তে হবে। সেই জন্য তারা দুঃখিত। রিপোর্টে বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক যৌথ পর্যালোচনার পরে এই নির্দেশিকা জারি করেছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে অভিভাবক ও শিক্ষাবিদরা স্বাগত জানিয়েছেন।
প্রশ্নপত্র পরিবহণ এবং ওএমআর শিট সুরক্ষিত ভাবে ফিরিয়ে আনার জন্য সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স এবং সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিওরিটি ফোর্সের জওয়ানদের দিয়ে একটি সুসংহত ‘দ্বিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়’ তৈরি করা হয়েছে। হায়দরাবাদ ও আমদাবাদে থাকা হাব থেকে আকাশ ও সড়কপথে দেশের প্রায় ৫৫১টি শহরে নিট পরীক্ষার সামগ্রী পাঠানো হবে। অন্যদিকে, আকাশপথে বায়ুসেনা প্রশ্নপত্র পরিবহণের দায়িত্বে থাকবে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৩ মে নিট পরীক্ষা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার আগে নিটের প্রশ্নপত্র থেকে ১০০-র বেশি প্রশ্ন টেলিগ্রাম-সহ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছিল। শুধু তাই নয়, কয়েকটি গ্রুপ ও চ্যানেলের মাধ্যমে রীতিমতো নিটের প্রশ্নপত্র কেনাবেচা হয়েছিল। মূলত টেলিগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করেই সেই প্রশ্নপত্র ফাঁস করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। এর জন্য কর্তৃপক্ষ সেই সময়ে পরীক্ষা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল।
আগামী ২১ জুনও যাতে ফের সেই অভিজ্ঞতার মুখে পড়তে না হয়, তার জন্য আগাম সতর্ক থাকছে প্রশাসন। আর সেই কথা মাথায় রেখেই নিট পরীক্ষা না হওয়া পর্যন্ত টেলিগ্রাম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র।