নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন তথা সিএএ-র শংসাপত্র এসআইআর-এর প্রামাণ্য নথি হিসেবে পেশ করা যাবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের নির্দেশ, নাগরিকত্ব সম্পর্কিত যে কোনও নথি প্রমাণ হিসেবে দাখিল করা যাবে। কমিশন নির্দেশের পরেই বিভিন্ন জেলায় ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে যুক্ত আধিকারিকদের পোর্টালে এই নির্দেশের কথা যুক্ত করা হয়েছে। কমিশনের এই নির্দেশে স্বস্তি মিলবে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষদের। সুবিধে হবে ম্যাপিং-এর ক্ষেত্রেও।
রাজ্যে এসআইআর-এর পর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর দেখা যায় যে, বাংলায় বিপুল সংখ্যক মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের নাম বাদ পড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে বিজেপির মতুয়া ভোট কমে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই আবহেই নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধনে এবার সিএএ শংসাপত্র প্রামাণ্য নথি হিসেবে গ্রহণ করা হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, মতুয়া ভোটের ক্ষেত্রে ড্যামেজ কন্ট্রোল করতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।
মতুয়াদের নাগরিকত্ব দেওয়া নিয়ে বিজেপি নেতাদের বিতর্কিত নানা মন্তব্যে মতুয়দের মধ্যে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং তারপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মতুয়া ভোট রক্ষায় ময়দানে অবতীর্ণ হন। কিন্তু তাতেও ড্যামেজ কন্ট্রোল সম্ভব হয়নি। কমিশনের এই নির্দেশের পর মনে করা হচ্ছে মতুয়াদের অনিশ্চয়তা কিছুটা কাটবে।
যদিও কমিশনের এই নির্দেশের পিছনে রাজনৈতিক যোগ রয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। গুঞ্জন উঠেছে বিজেপির চাপেই এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে নির্বাচন কমিশন। কারণ মতুয়াদের মধ্যে সংশয়ের সৃষ্টি হলে বিজেপির জনসমর্থনে তার প্রভাব পড়বে।
অন্যদিকে, রাজ্যের বিশাল সংখ্যক পরিযায়ী শ্রমিকের কথা মাথায় রেখে এসআইআর-এর শুনানি নিয়েও বড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে কমিশন। এবার থেকে কর্মক্ষেত্রে বা পড়াশুনোর জন্য রাজ্যের বাইরে থাকলে এসআইআর শুনানিতে সশরীরে হাজিরা দিতে হবে না। অনলাইনে দিলেই হবে। এর জন্য একটি পৃথক পোর্টাল তৈরি করা হবে।