গুজরাতে একটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজে র্যাগিংয়ের এক ভয়াবহ ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। ঘটনাটি গুজরাতের ভাবনগরের। ইতিমধ্যেই সেই সিসিটিভি ফুটেজের ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, অর্থোপেডিক বিভাগের কয়েকজন সিনিয়র রেসিডেন্ট চিকিৎসক তাঁদের জুনিয়রদের উপরে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক হেনস্থা চালাচ্ছেন। অপারেশন থিয়েটারের মধ্যেই জুনিয়রদের অপমানজনক ভঙ্গিতে দাঁড় করিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রথম বর্ষের স্নাতকোত্তর রেসিডেন্টদের উপর মানসিক নির্যাতন, অপমান এবং নানা ধরণের অত্যাচার চালানো হচ্ছিল। বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় মুখপাত্র ধ্রুব চৌহান। স্যার টি হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের ১৩ জন প্রথম বর্ষের স্নাতকোত্তর রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের উপর তাঁদেরই ৬ জন ইমিডিয়েট সিনিয়রের চালানো অত্যাচার, মানসিক হেনস্থা ও আর্থিক শোষণের ঘটনা ভাইরাল হয়। তিনি সমাজমাধ্যমে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তাঁর সেই পোস্ট ভাইরাল হতেই প্রশাসন নড়েচড়ে বসে।
চৌহান লিখেছেন, ‘আপনার সিনিয়ররা যদি আপনার উপরে অত্যাচার চালায়। ওটির ভিতরে আপনাকে ‘মুরগি’ বানিয়ে সারারাত দাঁড় করিয়ে রাখে এবং আপনার টাইমিং ও লোকেশন যাচাই করার জন্য প্রতি ঘণ্টায় সেলফি পাঠাতে বলে, তবে আপনি কী করবেন? গুজরাতের জিএমসি ভাবনগরে ঠিক এটাই ঘটছে। সেখানে অর্থোপেডিক বিভাগের কিছু চিকিৎসক তাঁদের জুনিয়রদের সঙ্গে এই আচরণ করছে। এদের প্রত্যেককে টার্মিনেট করা উচিত। এই গোটা ঘটনায় নীরব দর্শক হয়ে থাকার জন্য ওখানকার প্রফেসর এবং এইচওডি-র বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া উচিত।’
কলেজ কর্তৃপক্ষের অ্যান্টি-র্যাগিং কমিটি দীর্ঘ বৈঠক করে অভিযুক্ত ৬ জন সিনিয়রকে দোষী সাব্যস্ত করে। তাঁদের বিরুদ্ধে ৬ মাস থেকে ২ বছরের জন্য সাসপেনশনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হোস্টেল থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। ঘটনার পর সমাজমাধ্যমে বহু চিকিৎসক ও প্রাক্তন ছাত্র দাবি করেছেন, দেশের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজে এই ধরনের র্যাগিং ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ঘটনা বহুদিন ধরেই ঘটে চলেছে। ভাবনগরের ঘটনা সেই বাস্তব ছবিই আবার তুলে ধরল।