মধ্যস্থতা নয়। মন্দির-মসজিদ বিতর্কের সমাধান হোক আদালতেই। এমনই মত হিন্দু ও মুসলমান দুই পক্ষের। সুপ্রিম কোর্ট এই সংক্রান্ত বিবাদ আদালতের বাইরে মেটানো যায় কি না তা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে দেশের শীর্ষ আদালতের এই প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছে দুই পক্ষই।
বারাণসীর জ্ঞানবাপী, মথুরার শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি শাহি ইদগাহ ও সম্ভলের জামা মসজিদ বিতর্কের সমাধান আদালতেই যাতে হয় তা দুই পক্ষই জানিয়েছে। আগামী ২১ থেকে ২৩ আগষ্ট সুপ্রিম কোর্টে শুরু হচ্ছে সমাধান সমারোহ। এই বিশেষ লোক আদালতের মাধ্যমেই এই বিষয়ের একটি সমাধানসূত্র বার করা হবে। এমনটাই জানানো হয়েছে। কিন্তু হিন্দু ও মুসলিম দুই পক্ষই জানাচ্ছে তারা এই বিষয়ে ঢুকতেই চাইছে না। আদালতই এই বিষয়টির একটি হদিশ দিক। এমনটা চাইছেন।
দুই পক্ষই জানিয়েছে, এই বিতর্ক উপাসনালয় সংক্রান্ত পরস্পরবিরোধী দাবির সঙ্গে জড়িত। যা এমন সব সাংবিধানিক ও আইনি প্রশ্ন উত্থাপন করে যার জন্য আদালতের সুনির্দিষ্ট ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। তারা আরও উল্লেখ করেছে যে, বিষয়গুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থ ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য বহন করে। তাই তাদের মতে, প্রতিটি মামলার আদালতের মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। ফলে পরিস্থিতি যা দাঁড়াচ্ছে, প্রতিটি মামলার এবার আদালতে নির্দিষ্ট বিচারবিভাগীয় পদ্ধতিতেই নিষ্পত্তি হবে।
উল্লেখ্য, জ্ঞানবাপী মসজিদ হলেও তার জায়গায় জায়গায় রয়েছে মন্দিরের অজস্র নিদর্শন। যাকে হাতিয়ার করেই সবর হয়েছে হিন্দু পক্ষ। চলছে আইনি লড়াই। এদিকে হিন্দুত্ববাদীদের দাবি, বারাণসীর জ্ঞানবাপী মসজিদের মতো মথুরা শাহি ইদগাহেও রয়েছে ‘হিন্দুত্বের প্রমাণ’। সেই সংক্রান্ত মামলাও চলছে। পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশের সম্ভল (শাহি জামা) মসজিদকে ঘিরে হিন্দু ও মুসলিম পক্ষের মধ্যে এক ঐতিহাসিক ও আইনি বিতর্ক চলছে। হিন্দুপক্ষের দাবি, ১৫২৬ সালে একটি হরিহর মন্দির বা কল্কি মন্দির ভেঙে এই মসজিদ তৈরি করা হয়েছিল। পক্ষান্তরে মুসলিম পক্ষের দাবি, এটি একটি ঐতিহাসিক মসজিদ এবং সেখানে কোনও মন্দির ছিল না। এই সংক্রান্ত মামলাও রয়েছে আদালতে।