আমেরিকায় ভুয়ো পিৎজা ডেলিভারির ফাঁদে পড়ে খুন হলেন তেলেঙ্গানার যুবক। মৃত যুবকের নাম অংশুল কুঞ্চা (২৮)। ঘটনাটি ঘটেছে পেনসিলভেনিয়ার ফিলাডেলফিয়ায়। মর্মান্তিক ঘটনায় শোকস্তব্ধ তাঁর পরিবার। এই ঘটনার পর নিউ ইয়র্কে অবস্থিত ভারতীয় কনস্যুলেট শোক প্রকাশ করেছে।
পরিবার সূত্রের খবর, অংশুল একটি বহুজাতিক সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। তিনি অতিরিক্ত আয়ের জন্য সপ্তাহান্তে পিৎজা ডেলিভারির কাজ করতেন। গত শনিবার রাতে তিনি একটি পিৎজা ডেলিভারির অর্ডার পান। নির্দিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছতেই অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি তাঁকে লক্ষ্য করে পর পর গুলি চালায়। মাথায় একাধিক গুলি লাগায় ঘটনাস্থলেই অংশুলের মৃত্যু হয়।
পরিবারের অভিযোগ, এটি সাধারণ ঘটনা নয়। কারণ হামলাকারীরা অংশুলের থেকে কোনও জিনিসপত্র নেননি। ফলে হত্যার উদ্দেশ্য নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, ঘটনার সময়ে এলাকায় মুখোশ পরা দুই ব্যক্তিকে ব্যাগ নিয়ে ঘোরাফেরা করতে দেখা গিয়েছিল।
<blockquote class=”twitter-tweet”><p lang=”en” dir=”ltr”>We are deeply saddened by the untimely demise of Mr. Anshul Kuncha, an Indian national in Philadelphia, PA.<br><br>Our thoughts and heartfelt condolences to his family during this difficult time. The Consulate is in touch with Anushul’s family and is extending all possible assistance.…</p>— India in New York (@IndiainNewYork) <a href=”https://x.com/IndiainNewYork/status/2063301197352575001?ref_src=twsrc%5Etfw”>June 6, 2026</a></blockquote> <script async src=”https://platform.x.com/widgets.js” charset=”utf-8″></script>
অংশুলের বোন তনভি কুঞ্চার অভিযোগ, পুরো ঘটনাটিই পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘ওকে একটি নির্জন জায়গায় পিৎজা পৌঁছে দিতে বলা হয়েছিল। পরে জানতে পারি, সেটা ভুয়ো অর্ডার ছিল। সেখানে কেউ ছিল না। ওকে হত্যা করার জন্যই এই ফাঁদ পাতা হয়েছিল।’
তনভি জানান, প্রায় চার বছর ধরে অংশুল যুক্তরাষ্ট্রে থাকছিলেন। অংশুল সেখানে খুব খুশি ছিলেন। শুধু তাই নয়, তিনি সেখানে সকলের খুব প্রিয়ও ছিলেন। শেষকৃত্য সম্পন্নের জন্য অংশুলের পরিবার যত দ্রুত সম্ভব তাঁর দেহ ভারতে ফিরিয়ে আনার দাবি তুলেছে।
তনভি আরও বলেন, ‘আমরা চাই দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক।’ ঘটনার পর নিউ ইয়র্কে অবস্থিত ভারতীয় কনস্যুলেট শোক প্রকাশ করে একটি বিবৃতি দিয়েছে। সেখানে তারা জানিয়েছে, স্থানীয় প্রশাসন ও মৃতের পরিবারের সঙ্গে তারা যোগাযোগ রাখছে এবং সবরকম সাহায্য করছে।
এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ভারতীয়, বিশেষ করে তেলুগু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। তবে তেলেঙ্গানায় অংশুলের বাড়িতে এখন শুধুই শোকের ছায়া।