বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচনে জামাত-ই-ইসলামীর পরাজয়কে ‘সুখবর’ বলে স্বাগত জানালেন বিশিষ্ট লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তিনি মনে করেন, এই ফলাফল দেশের ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির পক্ষে ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে আরও সুসম্পর্ক গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।
তসলিমা নাসরিন বলেন, ‘যে শক্তি দীর্ঘদিন ধরে ধর্মের নামে রাজনীতি করেছে, তাদের পরাজয় গণতন্ত্রের পক্ষে শুভ সংকেত।’ তাঁর মতে, বাংলাদেশের মানুষ শান্তি, সহনশীলতা ও উন্নয়নকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন, নির্বাচনের ফলাফল প্রমাণ করেছে— তরুণ প্রজন্ম বিভাজনের রাজনীতিকে সমর্থন করতে চায় না।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও মজবুত করা উচিত। তাঁর বক্তব্য, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে। সেই ঐতিহাসিক বন্ধনকে সামনে রেখে দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি।’ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, তসলিমা নাসরিনের এই মন্তব্য বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বৃহত্তর বিতর্কের অংশ। নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে যেমন দেশজুড়ে আলোচনা চলছে, তেমনই আন্তর্জাতিক মহলেও নজর রয়েছে।
অন্যদিকে, জামাত-ই-ইসলামী ঘনিষ্ঠ মহল এই মন্তব্যকে ‘ব্যক্তিগত মত’ বলে উল্লেখ করেছে। তাদের দাবি, রাজনৈতিক সমীকরণ এত সহজ নয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের ভোটের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সামগ্রিকভাবে, এই নির্বাচনের পর বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক পর্বের সূচনা হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। ভবিষ্যতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক কোন পথে এগোবে এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব পড়বে, সেটাই এখন মূল আলোচনার বিষয়।