পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে বোমা মারার হুমকি। মন্দিরে হামলার হুমকি দিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করা হয়েছে বলে খবর। এই খবর প্রকাশ হতেই পুরীর জগন্নাথ মন্দির চত্বরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে মোতায়েন করা হয় পুলিশ। ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় এটিএস (সন্ত্রাস দমন বাহিনী), বম্ব ডিজপোজল স্কোয়াড। পুলিশ ইতিমধ্যেই এক ব্যক্তিকে আটক করেছে।
তদন্তে নেমে পুলিশ ও সাইবার বিশেষজ্ঞরা জানতে পারেন, এক মহিলার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে আতঙ্ক ছড়ানো হয়েছে। মহিলাকে জিজ্ঞাসাবাদ কর হয় এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুরী থানার পুলিশ। কীভাবে অন্যের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে এমন পোস্ট করা হয়েছে, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা। তবে আপাতত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কোনও কারণ নেই বলে জানিয়েছে পুলিশ। ভক্ত সমাগম নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি তাঁদের আশ্বস্ত করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় মঙ্গলবার। সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে ছড়িয়ে পড়ে। পোস্টে বলা হয়, পুরীর একটি শপিং মলে হামলা হবে। পাশাপাশি, তাতে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ শুভাশিস খুন্তিয়ার উপর হামলার হুমকিও দেওয়া হয়। পুরীর সাইবার আপরাধ দমন থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পুরীর পুলিশ সুপারের সঙ্গে ইতিমধ্যে কথা বলেছেন সাংসদ খুন্তিয়া। অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি সাংসদকে ফোন করে হুমকি দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। মন্দিরে নিরাপত্তা আটোসাঁটো করা হয়েছে। যাঁরা মন্দির চত্বরে প্রবেশ করছেন, তাঁদের খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই প্রথম নয়, এর আগেও পুরীর মন্দিরে বোমা মারার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। গত বছর আগস্টে পুরীর প্রাচীন মন্দিরের দেওয়ালে ওড়িশা ও ইংরেজি- দু’টি ভাষায় লেখা হুমকিবার্তা পাওয়া যায়। নিরাপত্তা বাড়িয়ে চালানো হয়েছিল তল্লাশি। সেই হুমকি বার্তায় লেখা ছিল, ‘জগন্নাথ মন্দিরে হামলা করবে জঙ্গিরা। গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে মন্দির।’ এমনকি সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নামও খোদাই করা হয়েছিল বলে খবর। এছাড়াও কয়েকটি ফোন নম্বর দিয়ে ফোন করতে বাল হয়েছিল।
পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে মন্দিরে। কিছু অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তি মন্দিরের দেওয়াল টপকে ভিতরে ঢুকে পড়ে বলে স্থানীয়রা সেই সময় অভিযোগ করেন। তাঁরাই এই কাজ করেছিলেন বলে অনুমান করা হয়েছিল। যা পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছিল। কয়েক মাসের মধ্যেই ফের বোমাতঙ্ক। পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে। তবে সবাইকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।