পাঁচ বছর পেটের ভিতরে রয়ে গিয়েছিল অস্ত্রোপচারের যন্ত্র

চিকিৎসকদের চরম অবহেলার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এলো কেরলে! রোগীর পেটের ভিতর থেকে পাঁচ বছর পর অস্ত্রোপচারের যন্ত্র বের করা হল ৫১ বছর বয়সি ঊষা জোসেফকুট্টির। তিনি এই রাজ্যের আলাপ্পুঝা জেলার পুন্নাপ্রার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করার পর অবশেষে কোচির একটি বেসরকারি হাসপাতালে সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ওই যন্ত্রটি অপসারণ করা হয়েছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ঊষার পেটের ভিতরে একটি লম্বা ও বাঁকানো ধমনী ফোর্সেপস পাওয়া যায়, যা ২০২১ সালের মে মাসে জরায়ু অপসারণের অস্ত্রোপচারের সময় ভুলবশত ভিতরে থেকে গিয়েছিল বলে অভিযোগ। এই অস্ত্রোপচারটি আলাপ্পুঝার সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভান্দানম শাখায় করা হয়েছিল।

অস্ত্রোপচারের পর থেকেই ঊষা ক্রমাগত পেটের ব্যথা এবং প্রস্রাবে রক্তপাতের সমস্যায় ভুগছিলেন। তিনি একাধিক হাসপাতালে চিকিৎসা করালেও এতদিন সমস্যার প্রকৃত কারণ ধরা পড়েনি। অবশেষে গত সপ্তাহে এক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে এক্স-রে পরীক্ষা করানো হলে পেটের ভিতরে ধাতব যন্ত্রটির উপস্থিতি ধরা পড়ে। তখনই বিষয়টি সামনে আসে এবং চাঞ্চল্য ছড়ায়।


এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে শনিবার কঠোর নজরদারির মধ্যে অস্ত্রোপচারটি করা হয়। অস্ত্রোপচারের সময় সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের দুই চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন, যাতে পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়। অস্ত্রোপচারের পর উদ্ধার হওয়া যন্ত্রটি আম্বলাপুঝার ডেপুটি পুলিশ সুপারের হাতে প্রমাণ হিসেবে তুলে দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারী দল জানিয়েছে, ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে যন্ত্রটির উৎস এবং দায় নির্ধারণের চেষ্টা করা হবে।

ঊষার পরিবারের অভিযোগ, যন্ত্রটি ধরা পড়ার পর কিছু চিকিৎসক বিষয়টি প্রকাশ্যে না আনার জন্য চাপ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। যদিও কেরলের স্বাস্থ্য দপ্তর এই ঘটনায় অবহেলার কথা স্বীকার করেছে। দপ্তরের দাবি, ওই সময় অতিমারি পরিস্থিতির কারণে চিকিৎসা ব্যবস্থার উপর প্রচণ্ড চাপ ছিল, যার ফলে এই ধরনের গুরুতর ত্রুটি ঘটে থাকতে পারে।

ঘটনার পর মেডিক্যাল শিক্ষা দপ্তরের নির্দেশে অস্ত্রোপচারের দায়িত্বে থাকা সহযোগী অধ্যাপক ডা. জে শাহিদা এবং নার্স পি এস ধন্যাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। হাসপাতালের নথি অনুযায়ী, মোট নয় সদস্যের একটি চিকিৎসক দল অস্ত্রোপচারটি করেছিল। নিয়ম অনুযায়ী অস্ত্রোপচারের আগে ও পরে সব যন্ত্র গোনা বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু সেই প্রক্রিয়াতেই বড় ধরনের গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনাও তীব্র হয়েছে। বিরোধীরা সরকারের বিরুদ্ধে চিকিৎসা ব্যবস্থায় চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলেছে। অন্যদিকে, স্বাস্থ্য দপ্তরের দাবি, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ফের যাতে এই ধরনের ঘটনা না ঘটে, তার জন্য নতুন নির্দেশিকা জারি করা হবে। ঊষার এই অভিজ্ঞতা শুধু চিকিৎসা ব্যবস্থার বড় ত্রুটিকেই সামনে আনেনি, বরং রোগীর নিরাপত্তা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।