নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে এনটিএকে কড়া ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে আবার চাপের মুখে পড়ল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ। সোমবার এই মামলার শুনানিতে সংস্থার ভূমিকা নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানায়, আগের প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি থেকে এনটিএ কোনও শিক্ষা নেয়নি। এটি ‘দুর্ভাগ্যজনক’ এবং অত্যন্ত উদ্বেগের। আগের মামলায় যে সংস্কার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল সেগুলি আদৌ কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতিরা। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এনটিএ, কেন্দ্র এবং সিবিআইয়ের জবাব তলব করেছে সুপ্রিম কোর্ট।

চলতি বছরের ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট-ইউজি পরীক্ষার পর থেকেই প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগ উঠতে শুরু করে। এই সমস্ত অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। প্রসঙ্গত, এর আগেও ২০২৪ সালে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। সেই সময় পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালত হস্তক্ষেপ করে এবং একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির সুপারিশ কতটা কার্যকর হয়েছে তা নিয়েও এবার এনটিএর কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে আদালত।

বিচারপতি পিএস নরসিংহ ও বিচারপতি অলোক আরাধের বেঞ্চ শুনানিতে জানায়, পূর্ববর্তী নির্দেশ ও সুপারিশ থাকা সত্ত্বেও একই ধরনের অনিয়ম আবার হয়েছে। এটি প্রশাসনিক ব্যর্থতার ইঙ্গিত। আদালত এনটিএ, কেন্দ্রীয় সরকার এবং সিবিআইকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষভাবে জানতে চাওয়া হয়েছে, আগের সংস্কার কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা কোথায় ব্যর্থ হয়েছে, পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই হলফনামা জমা দেওয়ার জন্য সময় দেওয়া হয়েছে ৩ দিন।


নিট বিতর্কের মধ্যে একাধিক সংগঠন এনটিএর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। ‘ফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন’ দাবি করেছে, এনটিএর পরিকাঠামোগত সংস্কার করা হোক, অথবা পরীক্ষার দায়িত্ব কোনও স্বশাসিত নতুন সংস্থার হাতে দেওয়া হোক। তাদের আরও দাবি, যতদিন না নতুন ব্যবস্থা চালু হচ্ছে, একটি শক্তিশালী অন্তর্বর্তী কমিটি গঠন করা হোক।

এদিকে পরীক্ষা বাতিল এবং আবার পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তে পড়ুয়াদের মধ্যে ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিকে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু পরীক্ষার্থী মানসিক চাপে ভেঙে পড়েছেন। সামনে এসেছে একাধিক আত্মহত্যার ঘটনাও। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের প্রায় ২৩ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এই পরীক্ষার সঙ্গে জড়িত। বারবার অনিয়ম এবং আবার পরীক্ষা দেওয়ার পরিস্থিতি শিক্ষার্থীদের মনের ওপর গভীর চাপ ফেলছে।

নিট-ইউজি ঘিরে চলা বিতর্ক এখন শুধু একটি পরীক্ষা সংক্রান্ত সমস্যা নয়, বরং দেশের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের কঠোর অবস্থান থেকে স্পষ্ট, এবার শুধু ব্যাখ্যা বা আশ্বাসে বিষয়টি থেমে থাকবে না। পরিস্থিতির প্রয়োজনে বাস্তবক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা এবং কার কোথায় দায়-দায়িত্ব, তা কতটা গুরুত্বসহকারে পালন করা হচ্ছে, তা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করাই এখন মূল লক্ষ্য হবে।