এসআইআর মামলায় এবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নোটিস দিল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার মামলার শুনানিতে জবাব তলব করা হয়েছে নির্বাচন কমিশন ও দুই কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশীর কাছেও। যদিও জ্ঞানেশ কুমারকে সাসপেন্ড করার আবেদন খারিজ করেছে সর্বোচ্চ আদালত। এখানেই শেষ নয়, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে মামলায় কেন্দ্রীয় সরকারকেও নোটিস দিল সুপ্রিম কোর্ট। একসপ্তাহের মধ্যে এই বিষয়ে তাদের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এদিন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, নির্বাচন কমিশন যদি আইনানুগভাবে কোনও সিদ্ধান্ত না নিয়ে থাকে, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেওয়া হবে। যদিও তাঁরা ধরে নিচ্ছেন নির্বাচন কমিশন আইন মেনে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে।
সর্বভারতীয় দৈনিক ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সদ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তোলা হয়। সেখানে দাবি করা হয়, বাকি দুই নির্বাচন কমিশনারকে অন্ধকারে রেখে একের পর এক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। নতুন ভোটারের নাম তোলার জন্য ফর্ম ৬ বিশেষ বদল করা হয়েছিল। যেটা জানতেন না বাকি দু’জন। সংবাদপত্রের ওই প্রতিবেদনকে হাতিয়ার করে কদিন আগে মামলা দায়ের হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। ৬ নম্বর ফর্মে বদল কে করেছে? নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতার উপর নেওয়া হয়েছিল কি? এই বিষয়ে জবাব তলব করা হয়েছে জ্ঞানেশ কুমার এবং বাকি দুই নির্বাচন কমিশনারের কাছে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে কমিশন যেভাবে নানা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, সেই পদ্ধতিকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা হয় সুপ্রিম কোর্টে। মামলাগুলির না মেটা পর্যন্ত জ্ঞানেশ কুমারকে সাসপেন্ডের আর্জিতেও একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। এই মামলাগুলি সোমবার শুনানির জন্য ওঠে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে। তবে এদিন সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, কোনও সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত কোনও নির্দেশ দিতে পারে না। আবেদনকারী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠি, রাকেশ কুমার সিং এবং সুধাকর সিংয়ের আবেদন ছিল, সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনে যে সিদ্ধান্তগুলি নেওয়া হয়েছে সেটা খতিয়ে দেখা হোক। সিদ্ধান্ত যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে না নেওয়া হয় তবে সেসব বাতিল করা হোক। সাসপেন্ড করা হোক মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে। তিনি যে রক্ষাকবচ পান সেটাও বাতিলের দাবি করা হয়।
তাছাড়া জ্ঞানেশ কুমারকে সাসপেন্ড করার যে আবেদন জানানো হয় সেটা নিয়ে এদিন কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ নির্বাচন কমিশনকে নোটিস পাঠানোর নির্দেশ দিয়ে জানিয়ে দেয়, ‘নোটিসের পরে যদি দেখা যায় কোনও সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে নেওয়া হয়নি তাহলে আমরা সেই সিদ্ধান্তগুলি প্রত্যাহার করে নেব। কোনও সংবাদপত্রের প্রতিবেদন ১০০ শতাংশ ঠিকও হতে পারে, আবার আংশিক ঠিকও হতে পারে, আবার ভুলও হতে পারে। আমরা তার ভিত্তিতে কোনও নির্দেশ দিতে পারি না। আমরা অবশ্যই নির্বাচন কমিশনের জবাব চাইব। যদি আমরা দেখি কোনও ক্ষেত্রে আইন মানা হয়নি, তাহলে আমরা সেটা বাতিল করে দিতে পারি। আমরা এই বিষয়ে জবাব তলব করছি। সুতরাং সাসপেন্ড করার কোনও যুক্তি নেই। আমরা এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং বাকি দুই কমিশনারের কাছে জবাব তলব করছি। সব সিদ্ধান্ত একতরফা ভাবে নেওয়া হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায় না।’