কাউকে আইনি নোটিস পাঠানো বা তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করার পর ওই ব্যক্তি আত্মহত্যা করলে, শুধুমাত্র সেই কারণে এফআইআর দায়েরকারীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার জন্য দায়ী করা যাবে না। এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল সুপ্রিম কোর্ট( Supreme Court)।
১৮ আগস্ট বিচারপতি মনোজ মিশ্র এবং বিচারপতি বিজয় বিষ্ণোইয়ের ( Supreme Court) বেঞ্চ জানায়, নিজের অধিকার রক্ষার জন্য কোনও ব্যক্তি আইনি পথে গেলে, সেটিকে সরাসরি আত্মহত্যায় প্ররোচনা হিসেবে দেখানো যায় না। এমনকি দায়ের করা এফআইআর পরে মিথ্যা প্রমাণিত হলেও, শুধুমাত্র এফআইআর দায়ের করাই আত্মহত্যায় প্ররোচনা অপরাধ হয়ে যায় না।
আরও পড়ুন: পার্ক স্ট্রিটের ফুটপাথের মহিলা ও শিশুর দায়িত্ব নিতে চান মমতা
একটি মামলার শুনানিতে এই পর্যবেক্ষণ করে শীর্ষ আদালত( Supreme Court)। মামলায় এক মহিলার বাবা, মা এবং ভাইয়ের বিরুদ্ধে তাঁর স্বামীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। ওই মহিলা স্বামীর বিরুদ্ধে পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগে এফআইআর দায়ের করেছিলেন এবং পরে ভরণপোষণের দাবিও জানিয়েছিলেন। এরপর তাঁর স্বামী আত্মহত্যা করেন। মহিলার পরিবারের দায়ের করা ‘মিথ্যা’ এফআইআর এবং হয়রানির কারণেই স্বামী এই চরম পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
মামলাটি গুজরাত হাইকোর্টে পর্যন্ত গড়ায়। হাইকোর্ট অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর খারিজ করতে অস্বীকার করে। এরপর তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের ( Supreme Court) দ্বারস্থ হন। শীর্ষ আদালত শেষ পর্যন্ত তাঁদেরর বিরুদ্ধে চলা ফৌজদারি মামলা খারিজ করে দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, মৃত ব্যক্তির নিজের হতাশা থেকেই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটিয়েছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। অভিযুক্তদের তরফে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মতো কোনও প্রত্যক্ষ ভূমিকার প্রমাণ নেই।
সুপ্রিম কোর্ট ( Supreme Court) আরও স্পষ্ট করে জানায়, কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা-এমনকি পরে সেটি মিথ্যা প্রমাণিত হলেও নিজে থেকে আত্মহ্ত্য়ায় প্ররোচনা হিসেবে গণ্য হবে না। প্রত্যেক ব্যক্তির নিজের অধিকার রক্ষার জন্য আইনি পথে যাওয়ার অধিকার রয়েছে।
আদালত ( Supreme Court) আত্মহত্যায় প্ররোচনার আইনি সংজ্ঞার কথাও উল্লেখ করেছে। সংশ্লিষ্ট আইনে প্ররোচনা বলতে কাউকে কোনও কাজ করতে উসকানি দেওয়া, সেই কাজ করার ষড়যন্ত্রে অংশ নেওয়া অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে কোনও বেআইনি কাজ বা গাফিলতির মাধ্যমে সেই কাজ হওয়ায় সাহায্য করাকে বোঝানো হয়েছে।
অর্থাৎ, শুধুমাত্র কারও বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া এবং তার পর ওই ব্যক্তির আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে, এই দুইয়ের মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র থাকলেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ প্রমাণ হয় না। প্রত্যক্ষ প্ররোচনা বা আইনে নির্ধারিত অপরাধমূলক ভূমিকার প্রমাণ থাকা প্রয়োজন।
দেখুন: Yogi Adityanath: মনুস্মৃতি বিতর্কে রাহুলকে নিশানা যোগীর