হরিয়ানায় নাবালিকা ধর্ষণের ঘটনায় ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলায় হরিয়ানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা করল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ পুলিশের কাজকে ‘লজ্জাজনক’ ও ‘অসংবেদনশীল’ বলে উল্লেখ করেছে। আদালতের প্রশ্ন, কেন পুলিশ নির্যাতিতার বাড়িতে যায়নি—’তারা কি কোনও রাজা-মহারাজা ?’

ঘটনাটি ঘটে হরিয়ানায় গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারির মধ্যে। অভিযোগ, তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। যদিও ঘটনাটি পরে প্রকাশ্যে আসে। তদন্তে একাধিক গাফিলতির অভিযোগ সামনে আসে। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে
শীর্ষ আদালত।

বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, অবিলম্বে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করতে হবে। এই দলে মহিলা আইপিএস অফিসারদের রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, এই মামলা পসকো আইনের আওতায় রুজু হলেও তুলনামূলক ভাবে লঘু ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে শো-কজ নোটিস জারি করে জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।


সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্য, ‘পুলিশ কেন ওই শিশুর বাড়িতে যেতে পারল না? তারা কোন রাজা-মহারাজা? আবার যে পুলিশ আধিকারিককে সেখানে পাঠানো হল, তাঁকেই উল্টে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

এর পাশাপাশি, এই ঘটনায় গুরুগ্রামের শিশু কল্যাণ কমিটির জমা দেওয়া রিপোর্ট নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আদালত। ওই রিপোর্টের জন্য কমিটির সদস্যদেরও শো-কজ করা হয়েছে। কেন কমিটির সদস্যপদ থেকে তাঁদের সরানো হবে না তাও জানতে চেয়েছে আদালত। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, ‘পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তা থেকে শুরু করে একেবারে নিচুতলা পর্যন্ত—সবাই একত্রে এটিই প্রমাণ করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছেন যে, শিশুটির কাছে কোনও প্রমাণ নেই। শিশুটির বাবা-মায়ের অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই, এটাই বোঝাতে চেয়েছেন সকলে।’

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, তদন্ত প্রক্রিয়ায় পুলিশ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তর থেকে এমন ইঙ্গিত দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে যে, শিশুটির অভিযোগের কোনও ভিত্তিই নেই। এই মানসিকতাকেই কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছে আদালত।

মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া গুরুগ্রামের পকসো আদালতের এক সিনিয়র মহিলা বিচারকের অধীনে চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা বিচারককে সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে বলেছে শীর্ষ আদালত।