মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সে দেশের সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টের অধিকাংশ বিচারপতি শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার সম্পর্কে সংশয় প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্পের এই পারস্পরিক শুল্কনীতিকে ‘অ্যাক্রস দ্য বোর্ড’ বলে বর্ণনা করেছেন বিচারপতিদের একাংশ। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের আইনি বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতিরা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একের পর এক দেশের উপর পারস্পরিক শুল্ক ঘোষণার ফলে বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিক যুদ্ধের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ভারত-সহ বিভিন্ন দেশের উপর চড়া শুল্ক আরোপ করা হয়। ট্রাম্পের বক্তব্য, কয়েক দশক ধরে শোষণ করা হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে। এবার মার্কিন করদাতাদের প্রতারণার যুগ শেষ হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘আমাদের দেশের করদাতারা ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। কিন্তু আর এটা চলতে দেওয়া হবে না।’
ট্রাম্পের শুল্কনীতি নিয়ে শুনানি চলছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে। আদালতে সওয়াল-জবাবের সময় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা ১৯৭৭ সালের আন্তর্জাতিক জরুরি আর্থিক ক্ষমতা আইনের প্রয়োগে অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কারণ এই আইনে শুল্ক নিয়ে কোনও কথার উল্লেখ নেই। এই আইনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করলে শুধুমাত্র তখনই আমদানি ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ জারি করতে পারেন।
বিচারপতিদের প্রশ্ন, ‘কিছু দেশের ক্ষেত্রে এই শুল্ক আরোপের কারণ বুঝতে পারছি, কিন্তু ব্যাখ্যা করুন কেন এত বেশি দেশকে পারস্পরিক শুল্ক আরোপ নীতির অধীনে আনা দরকার ছিল।’ প্রসঙ্গত ট্রাম্প ১৯৭৭ এর এই আইন ব্যবহার করে একতরফাভাবে ১০০টিরও বেশি দেশের আমদানির উপর শুল্ক আরোপ করেছেন।
এই মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী কয়েক সপ্তাহ বা এক মাসের মধ্যে হওয়ার সম্ভাবনা। আশঙ্কা করা হচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট যদি এই নির্দেশ বাতিল করে দেয় তাহলে ট্রাম্প এমন বাণিজ্যিক কৌশল গ্রহণ করতে পারেন যাতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। এই নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা।