নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা এবং নিয়োগ প্যানেলে মন্ত্রিসভার সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার শুনানির সময় বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি সতীশ চন্দ্র শর্মার বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, শুধু নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা থাকলেই হবে না, সেই স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা দৃশ্যমান হওয়াও অত্যন্ত জরুরি।
শুনানির সময় বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে, ‘নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে সরকারের এই স্বাধীনতা দেখানো কেন?’ আদালতের পর্যবেক্ষণ, নির্বাচন কমিশন দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক স্তম্ভ। ফলে সেই প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে কোনও পক্ষপাত বা প্রভাবের অভিযোগ ওঠা উচিত নয়।
বিচারপতিরা বলেন, একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিগুলির অন্যতম। তাই নিয়োগ প্রক্রিয়া এমন হওয়া প্রয়োজন, যাতে সাধারণ মানুষের মনে কোনও রকম সন্দেহ তৈরি না হয়। আদালতের মতে, শুধু নিরপেক্ষ হওয়াই যথেষ্ট নয়, গোটা প্রক্রিয়াকে এমনভাবে পরিচালনা করতে হবে, যাতে সেটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং স্বাধীন বলেই প্রতীয়মান হয়।
নিয়োগ প্যানেলে মন্ত্রিসভার সদস্য থাকার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তোলে শীর্ষ আদালত। আদালতের পর্যবেক্ষণ, সরকারের প্রতিনিধির উপস্থিতি থাকলে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা নিয়ে জনমানসে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। সেই কারণেই নিয়োগ পদ্ধতির কাঠামো কতটা ভারসাম্যপূর্ণ এবং সাংবিধানিকভাবে গ্রহণযোগ্য, তা নিয়েও আলোচনা প্রয়োজন বলে মনে করছে আদালত।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে গত কয়েক বছরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের একাংশ প্রশ্ন তুলেছে। সেই আবহে আদালতের এই পর্যবেক্ষণ নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং সাংবিধানিক ভারসাম্য নিয়ে নতুন বিতর্ক উস্কে দিতে পারে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই মামলার চূড়ান্ত রায় ভবিষ্যতে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের পদ্ধতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে কমিশনের স্বাধীনতা এবং সরকারের ভূমিকার সীমারেখা আরও স্পষ্ট হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।