নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস-কাণ্ডে রাস্তায় নেমেছিলেন হাজার হাজার পড়ুয়া। জুলাইয়ের সেই আন্দোলনের জেরে দায়ের হওয়া সমস্ত এফআইআর (FIR) খারিজ করে দিল দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) এই রায়ে স্বস্তি পেলেন কলকাতার এন্টালি ও হেয়ার স্ট্রিট থানায় দায়ের হওয়া মামলায় যুক্ত পড়ুয়ারাও, যাঁদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছিল কলকাতায় মিছিলে বিশৃঙ্খলার অভিযোগে।
বিতর্কের সূত্রপাত
দিল্লির যন্তর মন্তরে জড়ো হয়েছিলেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পড়ুয়ারা। নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে তাঁদের ক্ষোভ ছিল তুঙ্গে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছিল সেই আন্দোলন। ২০ তারিখ সংসদ অভিযানে চরমে ওঠে অশান্তি। ওই সময় দিল্লি পুলিশ একাই ১৩টি এফআইআর দায়ের করেছিল আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে। শুধু দিল্লি নয়, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্র ও আসামেও পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা রুজু হয়। সব মিলিয়ে সংখ্যাটা দাঁড়ায় ১১৬।
পশ্চিমবঙ্গের আটটি মামলা
পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিজেই আদালতে জানিয়েছিল, রাজ্যে মোট আটটি এফআইআর খারিজ করার আর্জি জানানো হচ্ছে। এর মধ্যে একটি দায়ের হয়েছিল এন্টালি থানায়, বাকি সাতটি হেয়ার স্ট্রিট থানায়। বিহার, মহারাষ্ট্র ও আসমের সঙ্গে হাত মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গও কেন্দ্রের প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেছিল আদালতে। গত ২৫ জুলাই কেন্দ্র জানিয়েছিল, আন্দোলন প্রত্যাহার করলে মামলা তুলে নেওয়া হবে। সেই প্রতিশ্রুতি রাখার দাবি নিয়েই রাজ্যগুলি শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়।
সংবিধানের ১৪২ ধারায় ভরসা
মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের (Chief Justice Surya Kant) নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সংবিধানের ১৪২ ধারা (Article 142) প্রয়োগ করে এই সিদ্ধান্ত নেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণ পড়ুয়াদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই এই রায়। প্রধান বিচারপতির পাশাপাশি এই বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী (Justice Joymalya Bagchi) এবং বিচারপতি ভি মোহনা। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, যে রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের এফআইআরের তথ্য এখনও আদালতের নজরে আসেনি, সেগুলিও একই সুবিধা পাবে। ভবিষ্যতেও এই আন্দোলন সংক্রান্ত কোনও নতুন এফআইআর দায়ের করা যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছে বেঞ্চ।
ব্যতিক্রম
তবে সবার জন্য ছাড় মেলেনি। যাদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই গুরুতর অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে, সেই ২৮৭৩ জনের বিরুদ্ধে একটিই এফআইআর দায়েরের অনুমতি দিয়েছে আদালত। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আগেই আদালতে জানিয়েছিলেন, খুনের মতো গুরুতর মামলায় জড়িত ব্যক্তিদের ছাড় দেওয়া হবে না।
প্রত্যাহার সেপ্টেম্বরের মিছিল
এই রায়ের পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে ছাত্র সংগঠন সিজেপি (CJP)। সংগঠনের সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস আদালতে জানান, কেন্দ্রের আশ্বাস ও আদালতের এই রায়ের প্রেক্ষিতে আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের প্রস্তাবিত দিল্লি অভিযান তাঁরা প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন। প্রসঙ্গত, নিট পরীক্ষার জেরে আত্মঘাতী পড়ুয়াদের পরিবারকে তিন মাসের মধ্যে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছে কেন্দ্র, যা আদালতে জানিয়েছেন সলিসিটর জেনারেল স্বয়ং।