যৌন অপরাধ সংক্রান্ত মামলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দৃষ্টান্তমূলক রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। স্তনে হাত দেওয়া বা পাজামার দড়ি টানার মতো আচরণকে ধর্ষণের চেষ্টা হিসেবে গণ্য করা যাবে না— এলাহাবাদ হাই কোর্ট–এর এই বিতর্কিত পর্যবেক্ষণ সম্পূর্ণ খারিজ করে দিল দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই ধরনের আচরণ ধর্ষণের প্রচেষ্টার পর্যায়েই পড়তে পারে এবং আইন অনুযায়ী তা গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি এনভি অঞ্জারিয়ার বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ রায় দেয়। বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে জানায়, যৌন অপরাধ সংক্রান্ত মামলায় বিচারব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির আরও সংবেদনশীল এবং দায়িত্বশীল হওয়া জরুরি। আদালত এই বিষয়ে আইনি ব্যাখ্যা ও বিচারিক দৃষ্টিভঙ্গি আরও সুসংহত করতে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশও দিয়েছে।
এই মামলার সূত্রপাত হয় এলাহাবাদ হাই কোর্টের বিচারপতি রাম মনোহর নারায়ণ মিশ্রর একটি পর্যবেক্ষণকে ঘিরে। তিনি মন্তব্য করেছিলেন, স্তনে হাত দেওয়া বা পাজামার ফিতে খুলে দেওয়ার মতো আচরণ ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেষ্টা নয়, বরং তা শারীরিক নিগ্রহের আওতায় পড়ে। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয় এবং নারী অধিকার কর্মী, আইনজীবী এবং সমাজের বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।
বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিতভাবে এই মামলায় হস্তক্ষেপ করে এবং এলাহাবাদ হাই কোর্টের ওই পর্যবেক্ষণের উপর স্থগিতাদেশ জারি করে। পরবর্তীতে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে শুনানি করে শীর্ষ আদালত চূড়ান্ত রায়ে হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দেয়।
গত বছরের মার্চে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি বিআর গাবাই এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসীহর বেঞ্চও এই মন্তব্যকে ‘অত্যন্ত অসংবেদনশীল’ এবং ‘অমানবিক’ বলে উল্লেখ করেছিল। তাঁরা মন্তব্য করেন, এই ধরনের পর্যবেক্ষণ বিচারব্যবস্থার মর্যাদা এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচারের অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করে।
সুপ্রিম কোর্ট তার চূড়ান্ত রায়ে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, যৌন অপরাধের ক্ষেত্রে আইনের ব্যাখ্যা এমনভাবে করা উচিত, যাতে ভুক্তভোগীর সম্মান, নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়। আদালত আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এই ধরনের মামলায় বিচারিক সংবেদনশীলতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় যৌন অপরাধ সংক্রান্ত মামলায় বিচারব্যবস্থার অবস্থান আরও স্পষ্ট করল এবং ভুক্তভোগীদের অধিকারের সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হবে।