মোথাবাড়ির ঘটনায় রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। বিশেষ করে রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তার ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। তাঁদের কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্যও বলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত।
এই ঘটনায় তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, রাজ্য পুলিশকে ১২টি এফআইআর-এর সমস্ত নথি এনআইএ-র হাতে তুলে দিতে হবে এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার রাতে মালদহর কালিয়াচক ২ নম্বর ব্লক অফিসে সাত জন বিচারককে কার্যত আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় আগেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট এবং দোষীদের দ্রুত শাস্তি ও বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছিল।
এ দিনের শুনানিতে আদালত জানতে চায়, সেই নির্দেশের পর কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়, ইতিমধ্যেই ১২টি এফআইআর দায়ের হয়েছে, ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ৪৩২ জনের কল ডিটেল রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
শুনানির সময় মুখ্যসচিব ও ডিজি ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন। মালদহের এসপি ও ডিএমও হাজির ছিলেন। আদালতে ওই ঘটনার ভিডিও ফুটেজও দেখানো হয়। সেই সময় প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, ঘটনার রাতে কেন মুখ্যসচিবকে যোগাযোগ করা যায়নি। তিনি কঠোর ভাষায় বলেন, এই পরিস্থিতির জন্য প্রশাসনের ব্যর্থতাই দায়ী।
আদালত এই ঘটনাকে ‘সুপরিকল্পিত’ বলেও মন্তব্য করেছে। পাশাপাশি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, রাজ্যের সমস্ত প্রশাসনিক দপ্তরকে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে এবং কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করতে হবে।