কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শুধু পুরসভা বা সাফাইকর্মীদের দায়িত্ব নয়, নাগরিকদেরও সমান দায়িত্ব রয়েছে। বর্জ্য কোথায়, কীভাবে ফেলা হচ্ছে এবং তা ঠিকভাবে আলাদা করে রাখা হচ্ছে কি না , সেই বিষয়গুলি সম্পর্কে প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে। দেশ জুড়ে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আইন কঠোরভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট।
বিচারপতি এসভিএন ভাট্টি ও বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চের নির্দেশ, বিপুল পরিমাণ বর্জ্য তৈরি করে এমন প্রতিষ্ঠানগুলিকে চিহ্নিত করতে হবে। শপিং মল, হোটেল, রেস্তোরাঁ, হাসপাতাল, বড় আবাসন বা বাণিজ্যিক ভবন—কোনও প্রতিষ্ঠান বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নিয়ম না মানলে তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে। এসব ক্ষেত্রে জল ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মতো পদক্ষেপও করা যেতে পারে।
আদালতের নির্দেশ, আগামী ৬ সপ্তাহের মধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বড় বর্জ্য উৎপাদনকারীদের তালিকা তৈরি করতে হবে। তাদের বর্জ্য আলাদা করে রাখা, নিরাপদে সংরক্ষণ এবং নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে তা নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করতে হবে। নিয়ম মানা হচ্ছে কি না তা নজরে রাখতে ডিজিটাল ব্যবস্থার সাহায্য নেওয়ার কথাও বলেছে আদালত। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরিস্থিতি বোঝাতে জিও-ট্যাগ করা ছবি এবং নিয়মিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভোপাল পুরসভার একটি মামলা থেকেই এই নির্দেশের সূত্রপাত। তবে কঠিন বর্জ্যের সমস্যা সারা দেশের সমস্যা হওয়ায় সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশের পরিধি দেশজুড়ে বাড়িয়ে দিয়েছে।
শুধু প্রশাসন নয়, স্কুল-কলেজের পড়ুয়াদের মধ্যেও সচেতনতা বৃদ্ধিতে জোর দিয়েছে আদালত। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে পাঠ্যক্রম ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাঁদের মাধ্যমে পড়ুয়াদের সচেতন করতে হবে। আবার সেই পড়ুয়ারাই নিজেদের বাড়ি ও এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা নেবে বলে জানিয়েছে আদালত।