রাহুল গান্ধীকে নোটিস সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের, বিরোধী দলনেতার আচরণে ক্ষুব্ধ

LOP Rahul Gandhi Photo-SNS

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চেয়ে রাজধানীর বুকে মিছিল হয় কদিন আগে। সেই মিছিল পৌঁছে গিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। সুপ্রিম কোর্টের দিকে মিছিল করে যাওয়া নিয়ে এবার লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে নোটিস পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট। ওই আচরণের জন্য তাঁর জবাব তলব করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বিরোধী দলনেতা যেভাবে হাজার হাজার কর্মীদেরকে নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট অভিযান করেছিলেন সেই ঘটনাকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ হিসাবে তুলে ধরে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন বিজেপি মুখপাত্র গৌরব ভাটিয়া। তার প্রেক্ষিতেই এই নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে খবর।

এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিনই ওই বিষয়ে ব্যাখ্যা জানাতে বলা হয়েছে। রাহুল গান্ধীর পাশাপাশি নোটিস পাঠানো হয়েছে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবকেও। এই নোটিস পাঠানোর সঙ্গে সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের মন্তব্য, ‘বিচার বিভাগকে কেউ ভয় দেখাতে পারে না। কেউ আমাদের ধমকাতে পারে না। এই ধরনের আচরণে কেউ প্রভাবিত হয় না। কেউ গুরুত্বও দেয় না।’ বৃহস্পতিবার নাম না করে এই ভাষাতেই বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর আচরণে ক্ষোভপ্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলন চালাচ্ছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করেছে ‘ইন্ডিয়া’র প্রতিনিধিদল। গত সোমবার প্রধান বিচারপতি কান্তের সঙ্গেও দেখা করতে চেয়েছিলেন রাহুলরা। কিন্তু সেটাতে মান্যতা দেননি প্রধান বিচারপতি। বরং চিঠি পাঠান রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকে। ওই দিনই মিছিল করে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে এসআইআরে অনিয়মের অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের করেন রাহুল গান্ধী-সহ প্রতিনিধিরা। ওই ঘটনার জন্য এবার রাহুলের জবাব তলব করল প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। বিজেপি মুখপাত্র গৌরব ভাটিয়ার দাবি, ‘এভাবে রাজনীতির স্বার্থে বিচারব্যবস্থাকে নিশানা করা সমর্থনযোগ্য নয়। যেটা হয়েছে সেটা হওয়া উচিত ছিল না।’ গৌরবের দাবির প্রেক্ষিতেই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘কেউ বিচারব্যবস্থাকে ভয় দেখাতে পারবে না।’


তাছাড়া ইন্ডিয়া জোটের প্রতিনিধিদের করা মামলার প্রেক্ষিতেও নির্বাচন কমিশনকে নোটিস পাঠিয়েছে শীর্ষ আদালত। ওই মামলায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং অপর দুই কমিশনার সুখবীর সিং সন্ধু এবং বিবেক যোশীর কাছ থেকে জবাব চেয়েছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। নাম না করে কড়া ভাষায় বিরোধী দলনেতাকে তিরস্কার করে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ বলেছে, ‘এসবই বিচারব্যবস্থাকে প্রভাবিত করার ব্যর্থ অপচেষ্টা। আদালতের বাইরে অনেকে অনেক কথা বলে। আমরা সব জানি, কোথায় কী হচ্ছে। আমরা কেউ গজদন্তমিনারে বসে নেই।’