উপনির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর আবেদনের জরুরি শুনানিতে রাজি হল না সুপ্রিম কোর্ট

Supreme Court Photo-SNS

আগামী ৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন। তার আগেই ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে দায়ের হওয়া মামলার শুনানি চেয়েছিলেন আবেদনকারীর আইনজীবী। কিন্তু শুনানি এগিয়ে আনতে রাজি হল না সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানিয়ে দিলেন, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ৫ অক্টোবরই মামলাটি শোনা হবে।

আবেদনকারীর আইনজীবীর বক্তব্য, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ১৮ হাজারের বেশি ভোটারের আবেদন এখনও ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। এসআইআর-এ নাম নিয়ে আপত্তির কারণে তাঁরা আগের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি। ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনের আগে তাঁদের আবেদনগুলির নিষ্পত্তি না হলে পরপর দু’টি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ থেকে তাঁরা বঞ্চিত হবেন। সেই কারণেই শুনানির দিন এগিয়ে আনার আর্জি জানানো হয়।

আদালতে আইনজীবী জানান, আগে সুপ্রিম কোর্টের তালিকায় মামলাটির শুনানির দিন ২৯ সেপ্টেম্বর দেখানো হয়েছিল। পরে তা পরিবর্তন করে ৫ অক্টোবর করা হয়েছে। ৬ অক্টোবরই যেহেতু দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচন, তাই তার আগে মামলাটি শোনার আবেদন জানান তিনি।কিন্তু সেই আর্জিতে সায় দেননি প্রধান বিচারপতি। আইনজীবী ফের বোঝানোর চেষ্টা করেন, আগের নির্বাচনে ভোট দিতে না পারা মানুষগুলি এবারও ভোট দিতে না পারলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে। এর পরেও প্রধান বিচারপতি জানান, ‘মামলা ৫ অক্টোবর শোনা হবে।’


পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ায় ৬০ লক্ষের বেশি নাম নিয়ে আপত্তি উঠেছিল। তথ্যগত অসঙ্গতি নিয়ে দায়ের হওয়া মামলাগুলির নিষ্পত্তির জন্য সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। বাদ পড়া বহু ভোটার নিজেদের বৈধ ভোটার দাবি করে সেখানে আবেদন করেন। কিছু আবেদনের নিষ্পত্তি হলেও এখনও বহু মামলা বিচারাধীন।

এর আগে এসআইআর সংক্রান্ত একটি মামলায় বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী জানিয়েছিলেন, কোনও নির্বাচনে ভোট দিতে না পারার অর্থ ভোটাধিকার চিরতরে চলে যাওয়া নয়। তবে কোনও ভোটারের আবেদন বিচারাধীন থাকলে তিনি সেই নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না।ট্রাইবুনালের কাজের গতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ইতিমধ্যেই ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হওয়া মামলাগুলির ৯৩ শতাংশই বৈধ ভোটার বলে গণ্য হয়েছেন। ফলে আবেদনগুলির নিষ্পত্তি দীর্ঘায়িত হওয়ায় বৈধ ভোটারদের একের পর এক নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে দ্রুত শুনানির জন্য সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন আবেদনকারীরা। তবে শুনানি এগিয়ে আনার সেই আর্জি মানেনি প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।