দ​রিদ্র পড়ুয়াদের জন্য ২৫% আসন সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক: সুপ্রিম কোর্ট

Photo: File photo

দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় সমতা ও সামাজিক ন্যায়ের লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ দিশা দেখাল সুপ্রিম কোর্ট। আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের জন্য সমস্ত স্কুলে অন্তত ২৫ শতাংশ আসন বিনামূল্যে সংরক্ষণ করতেই হবে—এই মর্মে স্পষ্ট নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত। আদালতের পর্যবেক্ষণ, প্রকৃত অর্থে দেশের উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন সমাজের প্রতিটি স্তরের শিশু সমান শিক্ষার সুযোগ পাবে।

এই মামলার শুনানিতে বিচারপতি পি এস নরসিংহ এবং বিচারপতি এ এস চান্দুরকারের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, ‘শিক্ষার অধিকার আইন’-এর মূল ভাবনাই হল প্রাথমিক শিক্ষা সকল শিশুর জন্য বাধ্যতামূলক করা। লিঙ্গ, বর্ণ, ধর্ম, জাতি কিংবা আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে কোনও শিশুকে শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা যায় না। আদালত স্পষ্টভাবে জানায়, শিক্ষা এমন একটি ক্ষেত্র, যেখানে বৈষম্যের কোনও স্থান থাকা উচিত নয়।

ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ‘একটি সুস্থ ও গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তুলতে হলে এমন শিক্ষাব্যবস্থা প্রয়োজন, যেখানে কোটিপতি পরিবারের সন্তান, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির সন্তান এবং একজন রিকশাচালকের সন্তান একই স্কুলে, একই পরিবেশে পড়াশোনা করার সুযোগ পাবে।’ এই সমন্বিত পরিবেশই ভবিষ্যতে সমানাধিকারভিত্তিক সমাজ নির্মাণের ভিত্তি গড়ে দেবে বলে মত আদালতের।


শীর্ষ আদালত আরও উল্লেখ করেছে, সমতা ও স্বাধীনতা কেবল ব্যক্তিগত অধিকার হিসেবে দেখলে চলবে না। সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তুলতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই সকলকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। সেই কারণেই ২৫ শতাংশ আসন সংরক্ষণকে দেশের দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে আদালত।

রায়ে কোঠারি কমিশনের প্রস্তাবিত ‘কমন স্কুল সিস্টেম’-এর প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়েছে। আদালতের মতে, এই ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা কার্যকর হলে সমাজের সব স্তরের ছাত্রছাত্রী একই ছাদের তলায় সমান সুযোগ পাবে। পাশাপাশি শিক্ষকদের ভূমিকাকেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, শিক্ষকদের সক্রিয় সহযোগিতা ও যত্ন পেলে আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীরাও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যেতে পারবে এবং সমাজের মূল স্রোতে নিজেদের জায়গা করে নিতে সক্ষম হবে।

এই রায় দেশের শিক্ষানীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকল বলেই মনে করছেন শিক্ষা ও আইন মহলের একাংশ।