উত্তরপ্রদেশের সোনভদ্রে পাথরখাদানে ধস, মৃত ৩

ছবি: এএনআই

উত্তরপ্রদেশের সোনভদ্রে একটি পাথর খাদানে আচমকা ধস নেমে শনিবার বিকেলে আটকে পড়েন প্রায় ১৮ জন শ্রমিক। আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধার করতে দ্রুত কাজ শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত ৩ জন শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, নিহতদের মধ্যে একজনের নাম রাজু সিং, বয়স ৩০। তিনি সোনভদ্র জেলার পানারি গ্রামের বাসিন্দা। বাকিদের উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

উত্তরপ্রদেশের সোনভদ্রের ওব্রা থানা এলাকার একটি পাহাড়ে শনিবার বিকেল ৩টে নাগাদ পাথরের খাদানে আচমকাই ধস নামে। বিলি মার্কুন্ডি নামে ওই খাদানটিতে কাজ করছিলেন ১৫ থেকে ১৮ জন শ্রমিক। আচমকা পাহাড়ের উপর থেকে পাথরের বড় বড় চাঁই খাদানের ভিতর নেমে আসে। বেশিরভাগ শ্রমিকই খাদানের ভিতরে আটকা পড়ে যান। এই ঘটনা নজরে আসতেই স্থানীয় মানুষ থানায় খবর দেন। এরপরেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চললেও, এখনও সব শ্রমিকদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। রবিবার সকালে উদ্ধারকাজ চালানোর সময় শনিবারই ১ শ্রমিকের দেহ উদ্ধার করে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। রবিবার উদ্ধারকাজ চলাকালীন আরও ২ শ্রমিকের মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছন ওব্রার সাবডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট বিবেক কুমার সিং, সার্কেল অফিসার হর্ষ পাণ্ডে, ওব্রা থানার ওসি বিজয় চৌরসিয়া এবং চোপন থানার ওসি কুমুদ শেখর সিং। ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বদ্রীনাথ সিং জানান, ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে। আরও অতিরিক্ত যন্ত্রপাতিও আনা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, কেন এই ধস নামল তা জানতে তদন্ত শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


তবে ওই খাদানটিতে মোট কতজন শ্রমিক আটকা পড়ে রয়েছেন তা নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। কারণ একজন শ্রমিক জানিয়েছেন, খাদানটিতে ঘটনার সময় ৯টি কম্পেসর চালু ছিল। এবং প্রতিটিতে একজন করে শ্রমিক কাজ করছিলেন। ফলে আটকে থাকা শ্রমিকের সংখ্যা আরও বেশি বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্য এক শ্রমিক ছোটু যাদব জানিয়েছেন, তাঁর ২ ভাই সন্তোষ যাদব এবং ইন্দ্রজিৎ যাদব ধ্বসংস্তূপের নিচে আটকে রয়েছেন।
আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধার করতে ঘটনাস্থলে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ছাড়াও রয়েছে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। এছাড়াও ওব্রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং ২টি বেসরকারি সংস্থার উদ্ধারকারী দল উদ্ধার অভিযানে হাত লাগিয়েছে।