‘মা-বাবা আমি তোমাদের ভালোবাসি’, মেধাবী ছাত্রীর দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য

উত্তরাখণ্ডে এক মেধাবী ছাত্রীর দেহ উদ্ধারকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের নাম রিয়া কুমারি থাপা (২৩)। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে। মঙ্গলবার ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় পুলিশ রিয়ার দেহ উদ্ধার করে। রিয়ার ঘর থেকে পুলিশ একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে বলে জানা গিয়েছে।

পুলিশ সূত্রের খবর, রিয়া ১৯৯৯ সালে কার্গিল যুদ্ধে যোগ দেওয়া একজন সৈনিকের মেয়ে। মঙ্গলবার দুপুরে রিয়ার মা তাঁকে খাওয়ার জন্য ডাকতে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে দেখেন রিয়ার ঘর ভিতর থেকে বন্ধ। অনেক ডাকাডাকি করার পরেও রিয়া দরজা না খোলায় তাঁর মায়ের সন্দেহ হয়। এরপর তাঁর মা রিয়ার বাবাকে গোটা বিষয়টা জানান।

পুলিশ সূত্রের খবর, অনেকবার ডাকাডাকি করার পরেও রিয়া দরজা না খোলায় শেষ পর্যন্ত তাঁরা দরজা ভাঙতে বাধ্য হন। ঘরের ভেতরে ঢুকেই তাঁরা শিউরে ওঠেন। ওই ঘর থেকে তাঁরা রিয়াকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পুলিশ রিয়ার ঘর থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে। সেই সুইসাইড নোটে রিয়া লিখেছেন, মা, বাবা আমি তোমাদের ভালোবাসি। এখানে কারও কোনও দোষ নেই।


জানা গিয়েছে, রিয়া খুব মেধাবী ছাত্রী ছিলেন। তিনি স্কুলের টপার ছিলেন। উচ্চমাধ্যমিকে তিনি ৯৭ শতাংশ নম্বর পেয়ে পাশ করেছিলেন। বর্তমানে রিয়া আসন্ন নিট-ইউজি পুনঃপরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এর আগেও তিনি একবার মেডিক্যাল পরীক্ষা দিয়েছিলেন। কিন্তু উত্তীর্ণ হতে পারেননি।

সিনিয়র পুলিশ অফিসার অনিকেত কাণ্ডারি জানিয়েছেন, রিয়া রাত জেগে পড়াশোনা করতেন। তাই একটু বেলা করে ঘুম থেকে উঠতেন। এদিনও তাই হয়েছিল। তাই রিয়ার মা দেরি করে তাঁকে ঘুম থেকে ডাকতে গিয়েছিলেন। সেই সময়ে তিনি রিয়াকে ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন।

অনিকেত কাণ্ডারি বলেছেন, ওই সুইসাইড নোটে রিয়া তাঁর বাবা-মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, তাঁর মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নন। তিনি নিজে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আর এই সিদ্ধান্তের পিছনে রিয়া নিজেকে অযোগ্য হিসেবে দাবি করেছেন। সিনিয়র পুলিশ অফিসার আরও জানিয়েছেন, মূলত পড়া্শোনায় সাফল্য না মেলায় রিয়া এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে পুলিশ মনে করছেন। পুলিশ রিয়ার দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। সেই সঙ্গে পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।