বেলডাঙাকাণ্ডে কলকাতা হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিল রাজ্য। রাজ্যের সেই আবেদন খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। কলকাতা হাইকোর্টের কোনও রায়ে হস্তক্ষেপ করল না সর্বোচ্চ আদালত। বেলডাঙায় অশান্তির মামলায় এনআইএ-কে যাবতীয় নথি হস্তান্তরের জন্য রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। কিন্তু তাতে আপত্তি জানিয়ে সর্বোচ্চ আদালতে যায় রাজ্য।
সেই মামলায় এদিন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত রাজ্যের সেই আবেদন খারিজ করে দেন। তাঁদের তরফে প্রশ্ন তোলা হয় যে, যদি রাজ্যের তরফে যাবতীয় নথি এনআইএ-কে না দেওয়া হয়, তাহলে তদন্তকারী আধিকারিকরা কীভাবে তদন্ত করবেন? এমত অবস্থায় সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের কোনও প্রয়োজনীয়তা নেই বলে জানিয়েছেন বিচারপতি।
এদিন রাজ্যের পক্ষের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় হাইকোর্টে দ্রুত শুনানির আর্জি জানান। তার প্রেক্ষিতেই সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয় যে, নির্ধারিত দিনেই কলকাতা হাইকোর্টে মামলার শুনানি হবে। তবে হাইকোর্টের কোনও নির্দেশে হস্তক্ষেপ করেনি সর্বোচ্চ আদালত।
ঘটনার সূত্রপাত হয় মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় এক পরিযায়ী অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে। ঝাড়খণ্ডে কর্মরত ছিলেন ওই যুবক। তার মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই অগ্নিগর্ভ হয় পরিস্থিতি। পরিবারের দাবি, পরিকল্পিতভাবে তাঁকে মারধর করে খুন করা হয়েছে। এর পর আত্মহত্যা প্রমাণ করতে তাকে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হওয়ায় তাকে এই হেনস্থার শিকার হতে হয়। ১৬ জানুয়ারি উত্তপ্ত হয় বেলডাঙা।
সুজাপুর-কুমারপুর এলাকায় শুরু হয় বিক্ষোভ। জাতীয় সড়ক অবরোধ, ট্রেন থামিয়ে প্রতিবাদ করে উত্তেজিত জনতা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ভাঙচুর থেকে সাংবাদিকদের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করার পরেও উত্তেজনা থামানো কঠিন হয়ে পড়ে। এরপরে এই ঘটনার তদন্তভার এনআইএ-র উপরে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট।
এরপর থেকেই এনআইএ-র তরফে রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগ তোলে। এরপর থেকে এনআইএ মামলায় ধৃতদের আদালতে হাজিরা দেওয়ার দাবি জানায়। আবার একইসঙ্গে রাজ্য পুলিশকে মামলার কেস ডায়েরি হস্তান্তর করতে হবে বলে হাইকোর্টে আবেদন জানায় তদন্তকারী সংস্থা। এরপরেই রাজ্যকে মামলার কেস ডায়েরি এনআইএ-কে হস্তান্তরের নির্দেশ দেয় আদালত। হাইকোর্টের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য। এবার রাজ্যের সেই আবেদনই খারিজ করল সর্বোচ্চ আদালত।