জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের স্পেশ্যাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এসআইএ)-র হাতে গ্রেপ্তার হলেন শ্রীনগরের বাতামলু এলাকার বাসিন্দা তুফাইল নিয়াজ ভাট। তদন্তকারীদের দাবি, ‘হোয়াইট কলার’ সন্ত্রাস চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগেই তাঁকে শনিবার আটক করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে এসআইএ।
এসআইএ সূত্রে খবর, গত মাসে শ্রীনগরের নওগামের বুনপোরা এলাকায় নিরাপত্তাবাহিনীকে খুনের হুমকি দেওয়া পোস্টার উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছিল এই গোপন নেটওয়ার্ক উৎখাতের তদন্ত। সেই তদন্তে প্রথমে ধরা পড়েন এক চিকিৎসক, যাঁকে সিসিটিভি ফুটেজে দেয়ালে পোস্টার লাগাতে দেখা গিয়েছিলেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হরিয়ানার ফরিদাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে হানা দেয় পুলিশ। সেখানে গ্রেপ্তার হয় আর এক চিকিৎসক, মুজাম্মিল গনাই।
পরে ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই আরও কয়েকজন চিকিৎসককে তুলে আনে পুলিশ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই চক্রটি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে চিকিৎসকদের ব্যবহার করে গোপনে কাজ চালাত। তাদের বিরুদ্ধে দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লার কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটানোর অভিযোগও রয়েছে। গত ১০ নভেম্বর লালকেল্লার নিকটে গাড়িতে বিস্ফোরণে অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়, জখম হন ২০ জনেরও বেশি। ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ধরা পড়েন ড. উমর উন নবি, যিনি আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়েরই কর্মী ছিলেন।
পুলিশের দাবি, বুনপোরায় পোস্টার লাগানোর তদন্ত থেকেই একে একে বেরিয়ে আসে গোটা নেটওয়ার্কের হদিশ। চক্রের বহু সদস্যকে গ্রেপ্তার করা গেলেও তদন্ত এখনও পুরোদমে চলছে। তুফাইল নিয়াজ ভাটের গ্রেপ্তার সেই তদন্তেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলে মত পুলিশের।
তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই সন্ত্রাস চক্রটি ‘সাদা পোশাকের’ আড়ালে সাধারণ মানুষের মধ্যে ত্রাস ছড়িয়ে, নিরাপত্তা রক্ষীদের বিরুদ্ধে হুমকি ছড়ানোর পরিকল্পনায় যুক্ত ছিল। নিরাপত্তাবাহিনীর কথায়, এই চক্র নির্মূল হওয়া পর্যন্ত অভিযান জারি থাকবে।