অপ্রাপ্তবয়স্কের হাতে গাড়ির স্টিয়ারিং তুলে দেওয়ার ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিল শ্রীনগরের ট্রাফিক আদালত। এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে অপ্রাপ্তবয়স্কের অভিভাবককে তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ২৫ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দিল আদালত। পাশাপাশি ওই ঘটনায় ব্যবহৃত গাড়ির নথিভুক্তিকরণও ১২ মাসের জন্য বাতিল করা হবে বলে নির্দেশে জানানো হয়েছে।
শ্রীনগরের বিশেষ মোবাইল ম্যাজিস্ট্রেট (ট্রাফিক) শবির আহমদ মালিক এই রায় দেন। আদালত জানায়, মোটরযান আইন অনুযায়ী অপ্রাপ্তবয়স্ক কেউ গাড়ি চালালে তার জন্য সরাসরি অভিভাবক বা গাড়ির মালিক দায়ী থাকবেন। সেই অনুযায়ী অভিযুক্ত অভিভাবকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। তাঁকে আদালতে হাজির হতে বলা হয়। আদালতে হাজির হয়ে অভিযুক্ত নিজের দোষ স্বীকার করেন এবং বিচার প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে কোনও প্রতিরক্ষা দাবি করেননি। তাঁর স্বীকারোক্তির ভিত্তিতেই আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে তিন বছরের সাধারণ কারাদণ্ড এবং ২৫ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দেয়।
আদালত আরও স্পষ্ট করে জানায়, মোটরযান আইনের ১৯৯এ ধারায় বলা হয়েছে, অপ্রাপ্তবয়স্ক কোনও ব্যক্তি গাড়ি চালিয়ে আইন ভঙ্গ করলে অভিভাবক বা গাড়ির মালিককেই দায়ী করা হবে। শুধু কারাদণ্ড ও জরিমানাই নয়, সেই গাড়ির নথিভুক্তিকরণ বাতিল করা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কের নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত ড্রাইভিং লাইসেন্স না দেওয়ার মতো ব্যবস্থাও নেওয়া যেতে পারে।
তবে এই ঘটনায় অভিযুক্তের বয়স, অতীত রেকর্ড এবং অপরাধের প্রকৃতি বিবেচনা করে আদালত তাঁকে সংশোধনের সুযোগও দিয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, অভিযুক্তকে দুই লক্ষ টাকার বন্ড জমা দিতে হবে। আগামী দুই বছর শান্তিপূর্ণ আচরণ বজায় রাখতে হবে। এই সময়ের মধ্যে তিনি কোনও শর্ত ভঙ্গ করলে তাঁকে নির্ধারিত তিন বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। সেই সঙ্গে বন্ডের টাকা বাজেয়াপ্ত করা হবে।
আদালতের এই রায় অপ্রাপ্তবয়স্কদের গাড়ি চালানো নিয়ে অভিভাবকদের দায়িত্ব ও সচেতনতার বিষয়টি নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ ভবিষ্যতে অভিভাবকদের আরও সতর্ক হতে বাধ্য করবে। পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।