স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে চলেছে কংগ্রেস। তাদের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছে তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি-সহ ইন্ডিয়া জোটের অন্য দলগুলি। চলতি বাজেট অধিবেশনেই বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার প্রস্ততি নিচ্ছে বিরোধী শিবির। প্রশ্ন হল, কী কারণে বিরোধী শিবিরের এই পরিকল্পনা। কংগ্রেস-সহ বিরোধীদের অভিযোগ, মোদী সরকার সংসদে বিরোধীদের কথা বলতে দিচ্ছে না। তাদের অপছন্দের কোনও বিষয় সংসদে উত্থাপন করতে দিচ্ছে না।
সরকারকে বাঁচাতে বারবার সংসদ মুলতুবি করে দিচ্ছেন লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা। সোমবার ফের বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে বলতে দেওয়ার দাবি তোলে কংগ্রেস। কিন্তু সেই অনুমতি মেলেনি। প্রতিবাদে তীব্র হই-হট্টগোলে শুরু হয় লোকসভায়। এর পরই বিরোধীদের ঘাড়ে দায় চাপিয়ে দফায় দফায় সংসদের অধিবেশন মুলতুবি করে দেন স্পিকার। এর পরই জোটবদ্ধ হয়ে বিরোধীরা সিদ্ধান্ত নেন, তাঁরা স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনবেন।
সূত্রের খবর, বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে চলেছে বিরোধী শিবির। কারণ, স্পিকারের বিরুদ্ধে আনাস্থা প্রস্তাব আনতে হলে ২০ দিনের নোটিশ প্রয়োজন। সে কারণেই বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার পরিকল্পনা। কংগ্রেসের অভিযোগ, লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না।
কিন্তু ট্রেজারি বেঞ্চের কিছু সাংসদকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন অনৈতিক কাজ ও জনবিরোধী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করায় ৮ জন বিরোধী সাংসদকে পুরো অধিবেশন জুড়ে সাসপেন্ড করা হয়েছে। স্পিকার পুরোপুরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সভা পরিচালনা করছেন। সরকার পক্ষের হয়ে কথা বলছেন। স্পিকারের যে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করা উচিত সেটা ভুলে যাচ্ছেন।
কংগ্রেসের আনাস্থা প্রস্তাব আনার এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছে তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি-সহ ইন্ডিয়া জোটের প্রায় সব শরিক দল। সোমবার সকালে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকেই এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। ওই বৈঠকের পরই অনাস্থা প্রস্তাব আনার তোড়জোড় শুরু করেছে কংগ্রেস। সংসদীয় রীতি অনুযায়ী অনাস্থা প্রস্তাব আনতে ৫০ জন সাংসদের স্বাক্ষর প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় সেই স্বাক্ষর ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে।
গত বুধবার লোকসভায় প্রধানমন্ত্রীর জবাবি ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সভায় আসেননি। মোদীর অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে বিড়লা বলেন, বিরোধী দলের মহিলা সাংসদরা প্রধানমন্ত্রীকে শারীরিকভাবে নিগৃহীত করতে পারেন, এই খবর তিনি আগাম পেয়েছিলেন। সে কারণেই তিনি প্রধানমন্ত্রীকে সভায় না আসার পরামর্শ দিয়েছিলেন। স্পিকারের এই মন্তব্যে ফুঁসে ওঠে কংগ্রেস-সহ গোটা বিরোধী শিবির।
কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন,‘প্রধানমন্ত্রীর উপর কারও হাত তোলার বা তাঁকে আঘাতের চেষ্টা করার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। মোদ্দা কথা হল, প্রধানমন্ত্রীর সভায় আসার সাহস নেই। তাই তিনি স্পিকারের আড়ালে লুকোচ্ছেন। এ ছাড়াও রাহুলকে প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল এমএম নারাভানের একটি অপ্রকাশিত বই থেকেও পড়তে বাধা দেন স্পিকার। কিন্তু বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবেকে কংগ্রেস এবং গান্ধী পরিবারের বিরুদ্ধে লেখা বই পড়ার অনুমতি দিয়েছিলেন বিড়লা। স্পিকারের এই আচরণ মেনে নেওয়া যায় না।