২০ দিন ধরে দিল্লির যন্তরমন্তরে অনশন চালাচ্ছিলেন শিক্ষাবিদ তথা পরিবেশবিদ সোনম ওয়াংচুক। টানা অনশনে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছিল। দীর্ঘদিন খাবার না খাওয়ায় তাঁর ওজনও আশঙ্কাজনক হারে কমে যায়। এই পরিস্থিতিতে শনিবার ভোরে, অনশনের ২১ তম দিনে, যন্তরমন্তর থেকে তাঁকে হাসপাতালে তুলে নিয়ে যায় দিল্লি পুলিশ। পুলিশ বলপ্রয়োগ করেই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার যন্তরমন্তরে ওয়াংচুকের উপর হামলার চেষ্টার অভিযোগ ওছে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের দাবি, কিছু দুষ্কৃতী ওয়াংচুককে লক্ষ্য করে কিছু একটা ছুঁড়ে মারে। তিনি বলেন, ‘সোনম স্যরের কিছু হলে তার দায় সরকারের’।
শুক্রবারই ওয়াংচুকের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানায় কংগ্রেস। এত দিন কংগ্রেস যন্তরমন্তরে চলা ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন এবং ওয়াংচুকের অনশন কর্মসূচি থেকে দূরত্ব বজায় রেখে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষামন্ত্রী ইস্তফার দাবিতে আলাদাভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিল।
তবে শুক্রবার কংগ্রেসের সংসদীয় কৌশল বৈঠকে সনিয়া গান্ধী ১৯৮৪ সালের একটি ঘটনার উল্লেশ করেন। তিনি বলেন, ওয়াংচুকের বাবা সোনম ওয়াংগিয়াল লাদাখবাসীদের তফসিলি জনজাতির স্বীকৃতির দাবিতে অনশন করেছিলেন। সে সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী নিজে তাঁর অনশন প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছিলেন।
শুক্রবার বিকেলে কংগ্রেসের প্রতিনিধি হিসেবে পবন খেরা যন্তরমন্তরে গিয়ে ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করেন। পরে দেহরাদুনে ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ জনসভা থেকে রাহুল গান্ধীও দেশের শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে সরকারকে আক্রমণ করেন।
সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর আগে ওয়াংচুকের প্রতি বিরোধীদের এই সমর্থন কেন্দ্রের উপর রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছিল। এরই মধ্যে শনিবার ভোরে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
<blockquote class=”twitter-tweet”><p lang=”en” dir=”ltr”><a href=”https://x.com/hashtag/WATCH?src=hash&ref_src=twsrc%5Etfw”>#WATCH</a> | Delhi: Activist Sonam Wangchuk, who was sitting on a hunger strike from last 20 days at Jantar Mantar, taken to the hospital by the police. <a href=”https://t.co/0TZExzIMHk”>pic.twitter.com/0TZExzIMHk</a></p>— ANI (@ANI) <a href=”https://x.com/ANI/status/2078300217779388612?ref_src=twsrc%5Etfw”>July 18, 2026</a></blockquote> <script async src=”https://platform.x.com/widgets.js” charset=”utf-8″></script>
উল্লেখ্য বৃহস্পতিবার দিল্লি হাইকোর্ট কেন্দ্রকে নির্দেশ দিয়েছিল যে, অনশনরত ওয়াংচুকের জীবনরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্রকুমার উপাধ্যায় ও বিচারপতি তেজস কারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ প্রতিদিন সরকারি চিকিৎসকদের দিয়ে তাঁর স্বাস্থ্যপরীক্ষা করানোর নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি চিকিৎসকদের রিপোর্টে প্রয়োজনীয় সুপারিশ থাকলে তা কার্যকর করারও নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশের দু’দিনের পরেই ওয়াংচুককে হাসপাতালে ভর্তি করানো হল।
প্রসঙ্গত নিটে প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবিতে গত ২০ জুন যন্তরমন্তরে আন্দোলন শুরু করে ককরোচ জনতা পার্টি। সাত দিন পরে সেই আন্দোলনে যোগ দিয়ে অনশন শুরু করেন সোনম ওয়াংচুক। তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি হতে শুরু করলে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়তে শুরু করে এবং যন্তরমন্তরে মানুষের ভিড়ও বাড়তে থাকে।