শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি, নিউ-ইউজি প্রশ্নফাঁস এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে টানা ২৬ দিন ধরে অনশনে বসেছিলেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের উপস্থিতিতে তিনি অনশন ভাঙার পর থেকেই বিতর্ক শুরু হয়। সমাজমাধ্যমে অভিযোগ ওঠে, কেন্দ্রের সঙ্গে ‘বোঝাপড়া’র মাধ্যমেই তিনি আন্দোলন থেকে সরে এসেছেন। সেই অভিযোগের জবাবে শুক্রবার রাতে এক দীর্ঘ ভিডিওবার্তায় সরাসরি সেই অভিযোগ খারিজ করে দেন সোনম ওয়াংচুক। হাসপাতাল থেকেই ভিডিও পোস্ট করে সমালোচকদের জবাব দেন তিনি।
ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, ‘২৬ দিন অনাহারে থাকার পরও কি আমাকে আমার আন্তরিকতার প্রমাণ দিতে হবে ? যদি সত্যিই কোনও বোঝাপড়া করতেই হত, তা হলে কি দিল্লির রাস্তায় এতদিন না খেয়ে বসে থাকতাম ? শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসেই তো বোঝাপড়া করা যেত।’ তিনি জনগণকে কোনও সিদ্ধান্তে আসার আগে তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে থাকা ২২ মিনিটের পুরো ভিডিও দেখার অনুরোধ জানান এবং তাঁর বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। কারও নাম উল্লেখ না করে ওয়াংচুক বলেন, এই ধরনের অভিযোগে তাঁর প্রতিবাদের ব্যক্তিগত মূল্যকে উপেক্ষা করা হয়েছে।
ওয়াংচুক জানান, দীর্ঘদিন অনশনে থাকার ফলে তাঁর শরীরের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। ওজন প্রায় ১১ কেজি কমে গিয়েছে, পেশির ক্ষয় হয়েছে, মস্তিষ্কের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, এবং শরীরের একাধিক অঙ্গের উপর গুরুতর প্রভাব পড়েছে। তার পরেও তাঁকে প্রমাণ দিতে হবে তাঁর অনশন কতটা আন্তরিক ছিল ? বর্তমানে সোনম গুরুগ্রামের মেদান্তা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর দাবি, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরেও তাঁকে নানারকম বিধিনিষেধের মুখে পড়তে হয়েছে। এমনকি এক পর্যায়ে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে, যার একটি ভিডিও-ও সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
ওয়াংচুকের কথায়, অনশন প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত কোনও রাজনৈতিক বোঝাপড়ার ফল নয়। তাঁর প্রথম অগ্রাধিকার ছিল আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ না করার বিষয়ে সরকারের তরফে আশ্বাস সুনিশ্চিত করা। পাশাপাশি পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে সংসদে আলোচনার সুযোগ এবং নিটের প্রশ্নফাঁস-সংক্রান্ত অভিযোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপের আশ্বাসও সরকার দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমোও সমাজমাধ্যমে একটি আবেগপূর্ণ বার্তা দেন। তিনি মানুষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন, তাঁর সিদ্ধান্তকে এত দ্রুত বিচার না করার জন্য। তিনি জানান, প্রায় এক মাসের অনশনে ওয়াংচুকের শারীরিক পরিস্থিতির অত্যন্ত অবনতি হয়েছে। তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। তাঁর কথায়, ‘আমাদের নিজেদের প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের বোঝা তাঁর ওপর চাপানোর আগে, আমরা অন্তত তাঁকে সহানুভূতিটুকু অন্তত দিতে পারি। তিনি আরও বলেন যে, ‘নিঃস্বার্থ সেবার জীবন’ বিচার করার যোগ্যতা সবার থাকে না। তিনি মানুষকে ‘হৃদয়বান’ হওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে, ওয়াংচুক অনশন ভাঙলেও ককরোচ জনতা পার্টি তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা ঘোষণা করে। ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে তাঁর অনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায় সিজেপি। সোনমের অনশন ভাঙার খবর পেয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘সোনমজিকে অনুরোধ, তিনি যেন চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলেন। দ্রুত তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরুন, তাঁর স্বাভাবিক ওজন ফিরে আসুক। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি সোনমজি যেন সুস্থ থাকেন।’ এদিকে শনিবার দেশজোড়া আন্দোলনের মধ্যেই দুপুরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।