কেন্দ্রের সঙ্গে বৈঠকেও রফা মিলল না। ফলে ফের রাস্তায় নামার হুঁশিয়ারি দিলেন লাদাখের পরিবেশ আন্দোলনকারী, শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, সরকার যদি এক সপ্তাহের মধ্যে লাদাখের দাবিদাওয়া নিয়ে ভরসাযোগ্য প্রতিশ্রুতি না দেয়, তা হলে আগামী ১৯ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর ফের বড় মাপের আন্দোলনে (agitation) নামতে বাধ্য হবেন তাঁরা।
হতাশ ওয়াংচুক
সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে লে অ্যাপেক্স বডি (Leh Apex Body বা LAB)-র উপ-কমিটি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (Ministry of Home Affairs বা MHA) মধ্যে একদফা বৈঠক হয়। সেই আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ওয়াংচুক। তাঁর অভিযোগ, লাদাখের মূল দাবিগুলি নিয়ে কেন্দ্র এখনও কোনও স্পষ্ট অবস্থান নেয়নি। এর পরই তিনি নতুন করে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।
উল্লেখ্য, লাদাখকেন্দ্রিক এই আন্দোলনের মূল দাবি রাজ্যের মর্যাদা (statehood), সংবিধানের ষষ্ঠ তফশিলে (Sixth Schedule) অন্তর্ভুক্তি এবং সংবিধানের ৩৭১ ধারার (Article 371) আদলে বিশেষ সুরক্ষা। পাশাপাশি গত বছরের হিংসার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহার, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ এবং তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশেরও দাবি জানিয়ে আসছে লে অ্যাপেক্স বডি ও কার্গিল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স (Kargil Democratic Alliance বা KDA)।
গত বছরের স্মৃতি
২০২৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর লে-তে (Leh) উত্তপ্ত হয়ে ওঠে আন্দোলন। দাবিদাওয়া আদায়ে ওয়াংচুক অনশন করছিলেন, সেই সময়েই বিক্ষোভ হিংসাত্মক চেহারা নেয়। বিজেপির দপ্তর এবং হিল কাউন্সিলের ভবনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারান চারজন বিক্ষোভকারী। জাতীয় সুরক্ষা আইনে (National Security Act বা NSA) গ্রেফতার হন ওয়াংচুক স্বয়ং। জোধপুর জেলে প্রায় ছ’মাস কাটানোর পর চলতি বছরের মার্চে ছাড়া পান তিনি। সেই স্মৃতিতেই সেপ্টেম্বর মাসকে শহীদ মাস (Martyrs Month) হিসেবে পালন করছে লে অ্যাপেক্স বডি।
পদযাত্রার প্যাঁচ
আসলে কার্গিল থেকে লে পর্যন্ত পদযাত্রার (padyatra) পরিকল্পনা আগেই করে ফেলেছিলেন আন্দোলনকারীরা। কিন্তু কেন্দ্রের সঙ্গে বৈঠকের কথা মাথায় রেখে তা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছিল। এখন বৈঠকের ফলাফলে সন্তুষ্ট না হওয়ায় সেই কর্মসূচি নতুন রূপে ফিরিয়ে আনার ইঙ্গিত স্পষ্ট। ওয়াংচুকের বার্তা অনুযায়ী, ২৪ সেপ্টেম্বরের আশপাশেই ফিরতে পারে বৃহৎ জমায়েত বা পদযাত্রার ছক, যা গত বছরের হিংসার বর্ষপূর্তির দিনক্ষণের সঙ্গেও মিলে যাচ্ছে।
কী হতে চলেছে
কেন্দ্রের তরফে এখনও পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, লাদাখ ইস্যুতে আলোচনার রফাসূত্র বারবার পিছিয়ে গিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ১৯ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বরের এই সময়সীমা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে। লাদাখের ভবিষ্যৎ আন্দোলনের অভিমুখ অনেকটাই নির্ভর করছে এই এক সপ্তাহের ওপর।