‘হিংসা নয়, আলোচনাই পথ’, ছাত্র বিক্ষোভ নিয়ে মোদীকে বার্তা আন্না হাজারের

Anna Hazare Photo-SNS

দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করলেন প্রবীণ সমাজকর্মী আন্না হাজারে। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, কোনও বিষয়ে মতপার্থক্য বা সমস্যার সমাধান কখনও হিংসার মাধ্যমে হতে পারে না। গণতান্ত্রিক দেশে আলোচনার পথেই সমাধান খুঁজতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে লেখা চিঠির পর বৃহস্পতিবার ফের এক সাক্ষাৎকারে ৮৯ বছর বয়সের এই গান্ধীবাদী নেতা বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদী দেশের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা। তাই তাঁকেই চিঠি লিখেছি। তাঁকে বুঝতে হবে, কোনও সমস্যার সমাধানে হিংসার পথ সঠিক পদক্ষেপ নয়।’ তবে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও তিনি বলেন, ‘যা ঘটেছে, তা অত্যন্ত ভুল ও অনুচিত।’

নিজের আন্দোলনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে হাজারে বলেন, তিনি জীবনে ২২ বার অনশন করেছেন, কিন্তু কোনও আন্দোলনেই হিংসার কোনও জায়গা ছিল না। তাঁর মতে, সরকারের উচিত দ্রুত আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসা। সংঘাত বাড়ানোর বদলে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান সম্ভব।


মোদীকে লেখা চিঠিতে আন্না হাজারে বলেন, ছাত্রদের উপর পুলিশের বলপ্রয়োগ এবং বিক্ষোভ ঘিরে হিংসার খবর অত্যন্ত কষ্টদায়ক। গণতন্ত্রে হিংসা, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা বা অপ্রয়োজনীয় শক্তি প্রয়োগের কোনও জায়গা নেই। প্রশ্নপত্র ফাঁস, নিয়োগে দেরি এবং বেকারত্ব নিয়ে তরুণদের ক্ষোভকে শুধুমাত্র আইন-শৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে দেখলে চলবে না। এর পিছনে থাকা হতাশা ও উদ্বেগও বুঝতে হবে।

নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রসঙ্গে তিনি সরকারের কাছে জবাবদিহির দাবি তোলেন। তাঁর বক্তব্য, কোনও প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায় শুধু নিচু স্তরের আধিকারিকদের উপর চাপিয়ে দেওয়া যায় না। শীর্ষ স্তরের দায়িত্বশীলদেরও দায় নিতে হবে। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনও মন্ত্রীকে দায়িত্বের কারণে সরিয়ে দিলে সরকারের ভিত দুর্বল হয় না, বরং প্রশাসন যে দায়বদ্ধ সেই বার্তাই দেওয়া যায়।

সম্প্রতি সিজেপির নেতৃত্বে হওয়া ‘চলো সংসদ’ অভিযানে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে। এই ঘটনার পরই প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লেখেন হাজারে। এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও তরুণদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ রক্ষা করাই সরকারের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

আন্না হাজারে একই সঙ্গে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে অনশনস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাতেও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, ব্যবস্থা নেওয়ার আগে সরকারের উচিত ছিল আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করা। ‘দাবি মানবেন কি না সেটা সরকারের সিদ্ধান্ত। কিন্তু কথা বলতে সমস্যা কোথায় ?’ প্রশ্ন তুলেছেন আন্না হাজারে। ২০১১ সালে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনায় আসা আন্না হাজারের এই বার্তা ফের একবার মনে করিয়ে দিল, গণতন্ত্রে মতের অমিল থাকলেও সমাধানের পথ হওয়া উচিত সংলাপে, সংঘাতে নয়।