জেলে বসে ফের সরকারি নির্দেশ পাঠালেন কেজরি 

দিল্লি, ২৬ মার্চ  – জেলে বসে ফের স্বাস্থ্য দফতরের উদ্দেশে নির্দেশিকা পাঠালেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল।  জল দফতরের পর ইডি হেফাজত থেকে সরকারি কাজকর্ম পরিচালনার বিষয়ে  এটি তাঁর দ্বিতীয় নির্দেশিকা।   

জেলে বসেই অরবিন্দ কেজরিওয়াল সরকার চালাবেন বলে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর গ্রেফতারির পরই বার্তা দিয়েছিলেন দিল্লি মন্ত্রিসভার অন্যতম সদস্য আতিশি। গত রবিবার জেলে বলে জল দফতর নিয়ে বিশেষ নির্দেশিকাও জারি করেন কেজরি। যা নিয়ে বিতর্কও শুরু হয়েছে। ইডি হেফাজতে থাকাকালীন সরকার চালানোর বিষয়ে এভাবে নির্দেশিকা পাঠানো যায় কি না, তিনি বার্তাই বা পাঠালেন কিভাবে , তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই বিতর্কের মধ্যেই মঙ্গলবার ফের সরকারি নির্দেশিকা পাঠালেন কেজরিওয়াল। এদিন তিনি তাঁর নির্দেশিকা স্বাস্থ্যমন্ত্রী সৌরভ ভরদ্বাজের কাছে পাঠান।
 
মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করে দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘জেলে থাকা সত্ত্বেও কেজরিওয়াল দিল্লির মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তিত। তিনি আমাকে  কিছু নির্দেশ দিয়েছেন। কেজরিওয়াল আমাকে বলেছেন, তিনি খবর পেয়েছেন দিল্লির কিছু হাসপাতালে এবং মহল্লা ক্লিনিকে বিনামূল্যে ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না। আবার  সব ওষুধ থাকছে না। অবিলম্বে এই সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।’’

গত বৃহস্পতিবার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে হানা দেয় ইডি। দিল্লির আবগারি দুর্নীতি মামলায় তল্লাশি অভিযানের পর রাতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। কেজরিওয়ালের এই গ্রেফতারিকে ‘বেআইনি’ বলে দাবি করে আপ। ইডির হাতে গ্রেফতার হওয়ার পরেও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেননি আপ প্রধান। তাঁর দলের তরফে জানানো হয়, কেজরিই মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন।

রবিবারই ইডি হেফাজত থেকে কেজরিওয়াল দিল্লির মন্ত্রী অতিশী মারলেনাকে কিছু প্রয়োজনীয় নির্দেশ পাঠান। সেই সম্পর্কে অতিশী জানান , রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরে জল সরবরাহের সমস্যা ছিল। সেই সমস্যা মেটাতে উদ্যোগী হওয়ার জন্য তাঁকে নির্দেশ দিয়েছেন কেজরি। তিনি বলেছিলেন ‘‘আমি বিজেপিকে বলতে চাই, আপনারা কেজরিওয়ালকে গ্রেফতার করতে পারেন, কিন্তু দিল্লির জনগণের প্রতি তাঁর ভালবাসা এবং কর্তব্যবোধকে বন্দি করে রাখতে পারবেন না।”


ভারতের ইতিহাসে কেজরীওয়ালই প্রথম মুখ্যমন্ত্রী যিনি গ্রেফতার হওয়ার পর ইডি হেফাজত থেকেই সরকারি কাজ পরিচালনা করছেন। তবে এই কাজকর্মকে কটাক্ষ করে বিজেপি দাবি করেছেন, কেজরীওয়াল এখন সহানুভুতি আদায়ের চেষ্টা করছেন। বিজেপি নেতা হরিশ খুরানা বলেন, ‘‘হঠাৎ করে তিনিদিল্লি নিয়ে চিন্তা দেখাচ্ছেন। এটা নাটক ছাড়া কিছুই নয়। গ্রেফতার হওয়ার পর সহানুভুতি আদায়ের চেষ্টা করছেন।’’