পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরের সময়সীমা বাড়াল সুপ্রিম কোর্ট। স্ক্রুটিনির জন্য অতিরিক্ত সাতদিন সময় দিল দেশের শীর্ষ আদালত। শুনানি শেষ হবে ১৪ ফেব্রুয়ারি। তারপর ৭ দিন অর্থাৎ ২১ তারিখ পর্যন্ত চলবে স্ক্রুটিনি। এরপর প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত তালিকা। এছাড়া ইআরও এবং এইআরও-রাই শুনানি প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানিয়েছে আদালত। পাশাপাশি মাইক্রো অবর্জাভারদের কোনও রকম সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নেই, সাফ জানিয়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি বা তথ্যের অসংগতিতে নোটিস নিয়ে এদিন কমিশনকে ভর্ৎসনা করে শীর্ষ আদালত। নামের বানান থেকে বাবা-মায়ের সঙ্গে বয়সের ফারাক নিয়ে যেভাবে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করা হচ্ছে এবং নোটিস পাঠানো হচ্ছে, তা নিয়ে বিরক্ত প্রকাশ করেছেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী।
সোমবার এসআইআর মামলার শুনানিতে মাইক্রো অবর্জাভারদের কাজ নিয়ে জানতে চান প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। এইআরও ও ইআরওদের সহযোগিতার জন্য মাইক্রো অবর্জাভারদের নিয়োগ করার বিষয় জানান কমিশনের আইনজীবী। তবে তাঁরা কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারে না বলেও জানানো হয়। এরপর প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘তাহলে রাজ্যের অফিসাররা যদি যোগ দেন, তাঁরাও মতামত দিতে পারবেন।
তাতে ইআরও-র সিদ্ধান্ত আরও মজবুত হবে।‘ এরপরই সাফ জানানো হয়, ইআরও এবং এইআরও-ই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। মাইক্রো অবর্জাভারদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনও অধিকার নেই। এদিনের শুনানিতে কমিশনকে ভর্ৎসনা করে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী। তিনি বলেন, ‘আপনাদের সফটওয়্যার খুবই সীমাবদ্ধ। অধিকাংশ বাঙালি পরিবারে মধ্যম নাম থাকে কুমার, তা নিয়ে সমস্যায় নোটিস পাঠানো হয়েছে।‘
এদিনের শুনানিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান জানান, রাজ্যের তরফে ৮৫০০ হাজার কর্মী দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল বিকেল ৫ টার মধ্যে তাঁদের কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অবিলম্বে তাঁদের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
গত বুধবার সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিল অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর এসআইআর নিয়ে কোর্টে এই সওয়াল ‘সাংবিধানিক ভাবে অনুচিত’ বলে দাবি করে তারা। আবেদনে দাবি করা হয়ে, ‘পিটিশনের বিষয় ব্যক্তিগত নয়। তার সঙ্গে জড়িত রয়েছে একটি রাজ্যের সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের এসআইআর পরিচালনা করা সাংবিধানিক অধিকার।’
আবেদনে আরও জানানো হয়, ‘এই পরিস্থিতিতে একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ব্যক্তিগত ভাবে সওয়াল করার দাবি তুলতে পারেন না। ব্যক্তিগত ভাবে তাঁর উপস্থিতিও সাংবিধানিক ভাবে অনুচিত।’ সোমবার বিজেপি ঘেঁষা এই সংগঠনকে ভর্ৎসনা করলেন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, রাজনীতি করবেন না। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, আদালতে মুখ্যমন্ত্রীর সওয়াল করা সংবিধানের উপরে তাঁর আস্থাই প্রকাশ করে। তাঁর পর্যবেক্ষণ, ‘এতে অস্বাভাবিক কী আছে? এটাই তো সংবিধানের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের প্রকাশ। এই বিষয়টিকে রাজনীতিকরণ করবেন না।’
আগের শুনানিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আর্জি ছিল, ভোটার তালিকায় কার নাম থাকবে, ডিইও, ইআরও-দের হাতেই যেন তার ছাড়পত্র দেওয়ার ক্ষমতা থাকে। ‘বিজেপি শাসিত রাজ্য’ থেকে পশ্চিমবঙ্গে নিযুক্ত রোল অবজার্ভার, মাইক্রো অবজার্ভারদের হাতে যেন ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার চূড়ান্ত ক্ষমতা দেওয়া না হয়। সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর এই আর্জি মেনে নিয়েছে শীর্ষ আদালত। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে নির্দেশ দিয়েছে, কমিশন প্রয়োজনে ইআরও এবং এইআরও-দের পরিবর্তন করতে পারবে।
যোগ্য মনে হলে বর্তমান অফিসারদের ব্যবহারও করতে পারবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ইআরও-রাই। মাইক্রো অবজার্ভার এবং এই অফিসারেরা শুধুমাত্র সাহায্য করবেন। রাজ্যের দেওয়া অফিসারদের দু’দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া যাবে বলেও জানিয়েছে কমিশন। এছাড়া এসআইআর নথি নষ্ট-অশান্তির ঘটনায় রাজ্য পুলিশের ডিজি পীযূষ পাণ্ডেকে শোকজ করেছে শীর্ষ আদালত।