ইরানে মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা সিদ্দারামাইয়ার

ইরানের উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে ‘অযৌক্তিক’ বলে তীব্র নিন্দা করলেন কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া। একইসঙ্গে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত পরিস্থিতিতে আরব দেশের বিভিন্ন এলাকায় আটকে থাকা কন্নড়দের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। রবিবার শিবমোগ্গা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আটকে থাকা কর্ণাটকের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় বিদেশ দপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রথম লক্ষ্য হল, কর্ণাটকের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা।’

মুখ্যমন্ত্রী জানান, বল্লারি জেলার অন্তত ৩০ জন বাসিন্দা বর্তমানে আরব দেশের বিভিন্ন এলাকায় আটকে রয়েছেন। তাঁদের ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, দুবাইয়ে অবস্থানরত ভারতীয়রা বর্তমানে নিরাপদেই রয়েছেন। সিদ্দারামাইয়া জানান, এই বিষয়ে তিনি রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং আবাসিক কমিশনারের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। দুবাই বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় বর্তমানে বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। তবে বিমান পরিষেবা পুনরায় চালু হলেই আটকে থাকা ব্যক্তিদের ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, জনতা দল (ধর্মনিরপেক্ষ)-এর বিধান পরিষদের সদস্য এস এল ভোজে গৌড়া, যিনি বর্তমানে দুবাইয়ে রয়েছেন। তাঁর সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে। ভোজে গৌড়া তাঁকে জানিয়েছেন যে, তিনি নিরাপদে রয়েছেন এবং একটি হোটেলে অবস্থান করছেন।

মার্কিন হামলার প্রসঙ্গে সিদ্দারামাইয়া বলেন, ‘একদিকে যুক্তরাষ্ট্র শান্তির কথা বলে, অন্যদিকে যুদ্ধ শুরু করে। এই দ্বৈত ভূমিকা সম্পূর্ণ পরস্পরবিরোধী এবং অযৌক্তিক।’ তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশও করেন এবং তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করেন। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে দুবাইয়ে আটকে থাকা কয়েকজন কন্নড়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁদের আশ্বস্ত করেছেন যে, রাজ্য সরকার তাঁদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে সমস্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।


তিনি বলেন, ‘পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে থাকা কর্ণাটকের বাসিন্দারা বর্তমানে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছেন। আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। রাজ্য সরকার তাঁদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর।’

এদিকে, বিদ্যুতের শুল্ক বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, বর্তমানে রাজ্য সরকারের কাছে এ ধরনের কোনও প্রস্তাব নেই। পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান সংঘাতের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন রাজ্য সরকার তাঁদের বাসিন্দাদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে। কর্ণাটক সরকারও সেই পথে দ্রুত পদক্ষেপ করছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।