আগামীকাল শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল ভাষণ, তা নিয়ে ভারতের অবস্থান জানতে চাইল বাংলাদেশ

Image: IANS

আগামীকাল বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina)ভার্চুয়ালি ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। ভারত এবং বাংলাদেশের সম্পর্কের কথা মাথায় রেখে এ বিষয়ে ভারতের স্পষ্ট অবস্থান জানতে চাইলে বাংলাদেশ। ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina)রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মত ঢাকার।

সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, বুধবার অর্থাৎ ৫ আগস্ট দক্ষিণ এশিয়ার ফরেন করেসপন্ডন্টস ক্লাব আয়োজিত একটি বেসরকারি অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখতে পারেন বলে খবর। এই দিনেই তিনি ক্ষমতাচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে থেকে পালিয়ে ভারতে চলে আসেন। এ নিয়ে গত দুবছর হবে তিনি নিজের দেশ ছাড়া ভারতের আশ্রয়ে রয়েছেন।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭৮ বছর বয়সি শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) পাশাপাশি ওই অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দিতে পারেন তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, বাংলাদেশের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাধারণ সম্পাদক মহাম্মদ আলি সিদ্দিকি।


আরও পড়ুন:  ইউজিসি-নেটের উত্তরসূচি ও ফল প্রকাশে বিলম্ব, উদ্বেগে পরীক্ষার্থীরা

শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশ চায়, এই বিষয়ে ভারত তার অবস্থান স্পষ্ট করুক। আমরা চাই না, এই ইস্যু দুই দেশের সম্পর্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলুক।‘তিনি আরও বলেন, ভারতে থেকে যদি কোনও ‘পলাতক ব্যক্তি’ বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালান, তবে তা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাঁর দাবি, বাংলাদেশ বরাবরই মনে করে, ‘পলাতক বা দণ্ডিত ব্যক্তিদের’ ভারতের মাটি ব্যবহার করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কাজ চালানোর সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।

বিদেশ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি চাই। আমার বিশ্বাস, ভারতও তাই চায়।‘ এদিকে, সোমবার ঢাকায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে দেখা করেন ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, ওই বৈঠকে হুমায়ুন কবীর ভারতকে অনুরোধ করেন, যাতে নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কোনও ব্যক্তি, বিশেষ করে ‘পলাতক’ শেখ হাসিনা-ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টির উদ্দেশে রাজনৈতিক বক্তব্য বা কাজ পরিচালনা করতে না পারেন।

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতিকে ঘিরে আইনি জটিলতা, আদালতে ২৫ মার্কিন অঙ্গরাজ্য

বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা দাবি, হুমায়ুন কবীর বৈঠকে আরও বলেন, ভারতের মাটি থেকে শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) সম্ভাব্য ভাষণ দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ভারতের হাইকমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, বৈঠকের মূল বিষয় ছিল ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে জনমুখী সহযোগিতা আরও জোরালো করা। এক্সে পোস্ট করে ভারতীয় হাইকমিশনার জানিয়েছেন, ‘দুই প্রতিবেশী দেশের পারস্পরিক স্বার্থ ও পারস্পরিক লাভের ভিত্তিতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েই আলোচনা হয়েছে।‘

ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীও বৈঠকে বলেন, ভারত বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে কাজ করতে আগ্রহী। যাতে দুই দেশের মানুষের উন্নয়নমূলক আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা যায়। উভয় পক্ষই আলোচনার মাধ্যমে গঠনমূলক কাজ এবং যোগাযোগ বজায় রাখার উপর গুরুত্ব দিয়েছে। পারস্পরিক আস্থা ও আলোচনার মাধ্যমে বাকি থাকা বিষয়গুলির সমাধান সম্ভব বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

 

https://youtube.com/shorts/yu9mqS-9f-k?si=LywH91vm7T6ncOPF