বন্যায় একেবারে বিপর্যস্ত আসাম। সেখানে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতিতে হু হু করে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। ইতিমধ্যেই সেখানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২। তবে শুধু আসাম নয়, কেরালা, ছত্তীশগড় ও গুজরাতেও ভারী বৃষ্টি ও বন্যার জেরে পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। বন্যা ও ভারী বৃষ্টির কারণে কেরালায় ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, ছত্তীশগড়ে দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। ইতিমধ্যেই এক হাজারেরও বেশি বন্যা দুর্গতরা ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। এদিকে মৌসুম ভবন আগামী কয়েকদিন আরও ভারী বৃষ্টি ও বন্যার জন্য নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে।
মৌসুম ভবন আসাম, কেরালা, ছত্তীশগড় ও গুজরাত ওই ছটি জেলায় লাল সতর্কতা জারি করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি আসামে। সেখানকার রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, শিবসাগর, গোলাঘাট, যোরহাট, নগাঁও ও চরাইদেও-সহ পাঁচ জেলায় ১ লক্ষ ৯২ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। ৩৭৯টি গ্রাম এখনও জলমগ্ন।
শিবসাগরের নেপালি খুটি এলাকায় ১৯ জুলাই হঠাৎ জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় বহু মানুষ প্রাণ বাঁচাতে বাড়ির ছাদ ও গাছে আশ্রয় নেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের ৬টি দেশি নৌকা প্রায় ১ হাজার জনেরও বেসি মানুষকে ৫টি গ্রাম থেকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যায়। উদ্ধারকারীদের দাবি, এমন ভয়াবহ বন্যা তারা এর আগে কখনও দেখেনি। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মা জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে শিল্পপতি গৌতম আদানি ১১ কোটি এবং রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন ২১ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে।
এদিকে কেরালায় প্রবল বৃষ্টিতে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও ৮জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। ১৩ জন আহত হয়েছেন। প্রায় ৫ হাজার ৮০০ জন মানুষকে ২০৯টি ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। ২৭টি বাড়ি সম্পূর্ণ এবং ১৯৬টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাঠানামথিট্টার রানি শহরে পাম্বা নদীর জল বাজারে ঢুকে পড়ায় ব্যবসায়ীদের লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
অন্যদিকে, ছত্তীশগড়ের নারায়ণপুর জেলার আবুজমাড় এলাকায় বন্যায় দুই কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫০টিরও বেশি বাড়ি। এর মধ্যে অন্তত ১৬টি বাড়ি সম্পূর্ণ ভেসে গিয়েছে। রাজ্য সরকারের দাবি, একটানা বৃষ্টির ফলে মেঘভাঙা বৃষ্টির মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। গুজরাতে মরবি, সুরেন্দ্রনগর, রাজকোট, আমেদাবাদ-সহ ছটি জেলায় লাল সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্র সরকার আসামের জন্য ৩৭৯.৩৫ কোটি টাকা, গুজরাত, মহারাষ্ট্র ও ওড়িশার জন্য ৫০০ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তার অনুমোদন দিয়েছে। হিমাচল প্রদেশের জন্য ১৯৩.৯৫ কোটি ও অরুণাচল প্রদেশের জন্য ৪৪.৫৫ কোটি টাকার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। বিভিন্ন রাজ্যে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীও মোতায়েন করা রয়েছে।
আরও পড়ুন: আসাম বন্যা দুর্গতদের জন্য আর্থিক সাহায্য নীতা আম্বানির
আইএমডি জানিয়েছে, আগামী ৪-৫ দিন উত্তর-পূর্ব ভারত ও মধ্য ও পূর্ব হিমালয়ের পাদদেশে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এর পাশাপাশি হিমাচল প্রদেশ, জম্মও কাশ্মীর, লাদাখ, উত্তরাখণ্ড, কেরালা ও কর্নাটকের কিছু অংশে বন্যার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। তাই বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।