মধ্যপ্রদেশের রাজ্যসভা নির্বাচন ঘিরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক বিতর্কে আপাতত বড় ধাক্কা খেল কংগ্রেস। দলের প্রার্থী মীনাক্ষী নটরাজনের মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করল সুপ্রিম কোর্ট। ফলে রাজ্যসভার একটি আসনে বিজেপির বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় কার্যত অক্ষুণ্ণ থাকল।
বৃহস্পতিবার দায়ের করা ওই মামলার শুনানি শেষে শুক্রবার বিচারপতি পিকে মিশ্র ও বিচারপতি এএস চন্দুরকরের বেঞ্চ স্পষ্ট জানায়, নির্বাচন প্রক্রিয়া একবার শুরু হয়ে গেলে তাতে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ সাধারণভাবে আদালতের নেই। ফলে এই পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আবেদন গ্রহণযোগ্য নয় বলে মত দেয় আদালত।
মীনাক্ষী নটরাজন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে তেলেঙ্গানার একটি মামলার তথ্য হলফনামায় উল্লেখ না করার অভিযোগ ওঠে। বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ জানানো হলে মনোনয়নপত্র খতিয়ে দেখে মধ্যপ্রদেশ বিধানসভার প্রধান সচিব তথা রিটার্নিং অফিসার অরবিন্দ শর্মা তাঁর প্রার্থীপদ বাতিল করে দেন।
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন মীনাক্ষী। তাঁর পক্ষে সওয়াল করেন কংগ্রেস নেতা ও আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি। তিনি আদালতে দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট মামলায় শুধুমাত্র সমন জারি হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে এমন কোনও ফৌজদারি অভিযোগ ছিল না যা আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলকভাবে হলফনামায় উল্লেখ করতে হত। তাই মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত আইনসঙ্গত নয়।
তবে বিচারপতি পিকে মিশ্র এবং বিচারপতি এএস চান্দুরকরের বেঞ্চ এই যুক্তি গ্রহণ করেনি। আদালত জানায়, নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেলে সাধারণত আদালত তাতে হস্তক্ষেপ করে না। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনী বিরোধের নিষ্পত্তির জন্য আলাদা আইনি পথ রয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তে ভুল থাকলে এবং তার বিরুদ্ধে লড়াই করতে গেলে অন্য নির্দিষ্ট আইনি পথ ব্যবহার করতে হবে। তবে সুপ্রিম কোর্ট কংগ্রেসের সামনে একটি রাস্তা খোলা রেখেছে। বিচারপতিরা জানিয়েছেন, চাইলে নির্বাচন কমিশনের কাছে এই বিষয়ে আবেদন জানানো যেতে পারে।
কংগ্রেসেরও দাবি, মীনাক্ষীর বিরুদ্ধে কোনও প্রকৃত ফৌজদারি মামলা নেই। তাঁকে শুধুমাত্র একটি আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছিল। মধ্যপ্রদেশের বিরোধী দলনেতা উমঙ্গ সিংঘার এবং রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি জিতু পাটোয়ারীও মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
যদিও এই যুক্তিকে অগ্রাহ্য করে এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের অপেক্ষা না করেই বৃহস্পতিবার রাতে বিজেপির ৩ প্রার্থী তরুণ চুঘ, রজনীশ অগ্রবাল এবং মহেশ কেওয়াতকে ‘বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতা
উল্লেখ্য, ২৩০ সদস্যের মধ্যপ্রদেশ বিধানসভায় বিজেপির ১৬৩ জন এবং কংগ্রেসের ৬৬ জন বিধায়ক রয়েছেন। সংখ্যার হিসেবে বিজেপির দুটি এবং কংগ্রেসের একটি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু মনোনয়ন বাতিলের জেরে সেই সমীকরণ পুরোপুরি বদলে যায়।
মধ্যপ্রদেশের রাজ্যসভা নির্বাচন ঘিরে বিতর্কের আবহ এখনও কাটেনি। কংগ্রেসের অভিযোগ, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পক্ষপাতিত্ব হয়েছে। বিজেপির দাবি, আইন মেনেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একদিকে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ না করা এবং অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের দ্রুত পদক্ষেপ — সব মিলিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ঝাড়খণ্ডে রাজ্যসভা ভোটে বিজেপি সমর্থিত নির্দল প্রার্থী পরিমল নাথওয়ানির বিরুদ্ধে নির্বাচনী হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠলেও তাঁর মনোনয়ন বাতিল করেনি কমিশন। ফলে বিতর্ক আরও জটিল হয়েছে। এখন নির্বাচন কমিশনের কাছে কংগ্রেস কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।