দেশের ২৮টি রাজ্যের ১৪ জন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলা রয়েছে। লোকসভার ২৫১ জন সাংসদের বিরুদ্ধে অপরাধ মামলা রয়েছে। অন্যদিকে, রাজ্যসভার ৭৫ জন সাংসদের বিরুদ্ধে অপরাধ মামলা রয়েছে। সাংসদ ও বিধায়কদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অপরাধ মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি চেয়ে আদালতে হলফনামা জমা দিয়েছেন সিনিয়র আইনজীবী বিজয় হন্সারিয়া।
তালিকায় সবচেয়ে বেশি মামলা রয়েছে তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এ রেবন্ত রেড্ডির বিরুদ্ধে। তাঁর বিরুদ্ধে ৮৯টি অপরাধ মামলা রয়েছে। তারপরেই রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বিরুদ্ধে ২৯টি গুরুতর মামলা রয়েছে বলে সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার ও অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নায়ডুর বিরুদ্ধে ১৯টি মামলা রয়েছে। কেরালার মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশনকে ঘিরে রয়েছে ১৮টি মামলা। ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের বিরুদ্ধে ৫টি মামলা রয়েছে। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীশ ও হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখুর বিরুদ্ধে চারটি করে মামলা রয়েছে। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয় ও বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরির বিরুদ্ধে ২টি করে মামলা রয়েছে।
সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী পি এস তামাং, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান, ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি এবং রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মার বিরুদ্ধে একটি করে মামলা রয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু মুখ্যমন্ত্রী নয়, বিভিন্ন রাজ্যের বিধায়কদের বিরুদ্ধেও গুরুতর মামলা রয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের ২৯২ জন বিধায়কের মধ্যে ১৭০ জনের বিরুদ্ধে গুরুতর মামলা রয়েছে। অর্থাৎ রাজ্যের প্রায় ৫৮ শতাংশ বিধায়ক এই তালিকায় রয়েছেন।
কেরালায় ৫৭ শতাংশ বিধায়কের বিরুদ্ধে গুরুতর মামলা রয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশে ৫৬ শতাংশ, তেলেঙ্গানায় ৪৯ শতাংশ, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশায় ৪৫ শতাংশ, বিহারে ৪২ শতাংশ ও মহারাষ্ট্রে ৪০ শতাংশ বিধায়কের বিরুদ্ধে গুরুতর মামলা রয়েছে। রিপোর্টে লোকসভা সদস্যদের নিয়েও উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। ৫৪৩ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে ১৭০ জনের বিরুদ্ধে গুরুতর মামলা বিচারাধীন রয়েছে। যা মোট সদস্যের প্রায় ৩১ শতাংশ।
তেলেঙ্গানার ১৭ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে ১১ জনের বিরুদ্ধে গুরুতর মামলা রয়েছে। কেরালায় ২১ জনের মধ্যে ১১ জন, বিহারে ৪০ জনের মধ্যে ১৯ জন, উত্তরপ্রদেশে ৮০ জনের মধ্যে ৩৪ জম সাংসদের বিরুদ্ধে এমন মামলা দায়ের রয়েছে। অন্যদিকে, মহারাষ্ট্রে ৪৮ জনের মধ্যে ১৭ জন, পশ্চিমবঙ্গে ৪২ জনের মধ্যে ১৬ জন এবং অন্ধ্রপ্রদেশে ২৫ জনের মধ্যে ৯ জন লোকসভা সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের রয়েছে।
এদিকে লোকসভার মত রাজ্যসভাতেও একই ছবি। ২৩৩ জন সদস্যের মধ্যে ৭৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৪০ জনের বিরুদ্ধে গুরুতর মামলা রয়েছে। রিপোর্টে ৫ বছর বা তার বেশি কারদণ্ড হতে পারে, এমন অপরাধকে গুরুতর মামলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত দেশের বর্তমান ও প্রাক্তন সাংসদ মিলিয়ে ৪১৯২টি মামলা এখনও আদালতে ঝুলে রয়েছে।
জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে বিচারাধীন মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে চলা প্রায় এক দশকের পুরনো মামলাতেই এই রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে। আইনজীবী স্নেহা কালিতার মাধ্যমে রিপোর্টটি আদালতে জমা দেওয়া হয়।