ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (Chief Election Commissioner) এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের (Election Commissioners) দেওয়া ঢালাও আইনি রক্ষাকবচ (Blanket Immunity) নিয়ে এবার কড়া পদক্ষেপ করল সুপ্রিম কোর্ট। ৪ নভেম্বর, ২০২৬-এ এই রক্ষাকবচের সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলার (Public Interest Litigation) ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সরকার এবং জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে (Election Commission of India) নোটিস পাঠাল শীর্ষ আদালত।
বিতর্কের কেন্দ্রে কোন আইন?
২০২৩ সালে পাশ হওয়া ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার আইন’-এর ১৬ নম্বর ধারাটি (Section 16 of the CEC & EC Act, 2023) নিয়েই যত বিতর্ক। এই ধারা অনুযায়ী, পদে থাকাকালীন বা অবসর গ্রহণের পর, কোনও অবস্থাতেই নির্বাচন কমিশনারদের সরকারি দায়িত্ব পালন সংক্রান্ত কোনও কাজের জন্য তাঁদের বিরুদ্ধে আদালতে কোনও দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা (Civil or Criminal Proceedings) দায়ের করা যাবে না। অর্থাৎ, এই রক্ষাকবচটি শর্তহীন এবং আজীবন (Lifelong and unconditional)।
কেন এই মামলা?
আদালতে দায়ের হওয়া পিটিশন অনুযায়ী, এই আইনটি ভারতীয় সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদের (Article 14-Equality Before Law) সরাসরি পরিপন্থী। অভিযোগ, এই ধরনের ঢালাও রক্ষাকবচ (Blanket Immunity) সংবিধানে থাকা ‘আইনের চোখে সকলে সমান’ নীতির পরিপন্থী এবং এটি নির্বাচন কমিশনারদের যে কোনও খামখেয়ালি বা পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্তকে (Arbitrary actions) আইনি সুরক্ষা দিয়ে দিতে পারে।
সংবিধান কী বলছে?
ভারতের সংবিধানে রাষ্ট্রপতি এবং রাজ্যপালদের (President and Governors) নির্দিষ্ট আইনি রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে (Constitutional Immunities)। কিন্তু সেই সুবিধাও তাঁরা কেবল পদে থাকাকালীনই পেয়ে থাকেন। মামলাকারীর যুক্তি, দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদাধিকারীদেরও যখন আজীবন রক্ষাকবচ নেই, তখন নির্বাচন কমিশনারদের কেন তা দেওয়া হবে? যদিও কেন্দ্র এর আগে জানিয়েছিল, নির্বাচন কমিশন যাতে স্বাধীন এবং বাধাহীনভাবে (Unhindered and independent manner) কাজ করতে পারে, সেই কারণেই এই আইনি সুরক্ষার প্রয়োজন।
সুপ্রিম কোর্টের এই নোটিস নিঃসন্দেহে কেন্দ্রের জন্য একটি বড় চাপ। শীর্ষ আদালতের চূড়ান্ত রায়ের ওপরই নির্ভর করছে, গণতন্ত্রের অন্যতম বড় স্তম্ভের আধিকারিকরা এই নজিরবিহীন আইনি সুবিধা ভোগ করতে পারবেন কি না।