সোশ্যাল মিডিয়ায় সোমবার থেকে ঘুরছিল একটা ছবি, খবরের কাগজের প্রতিবেদনের আদলে বানানো। দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার অনুমোদন দিয়ে দিয়েছে স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (SBI), পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক (PNB) এবং কানাড়া ব্যাংকের (Canara Bank) সংযুক্তিকরণে। দেশের তিন বৃহত্তম সরকারি ব্যাংক এক হয়ে যাচ্ছে শুনে স্বাভাবিক ভাবেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বহু গ্রাহক ও কর্মী।
কিন্তু সোমবারই এই দাবি নস্যাৎ করে দেয় কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের অধীন পিআইবি ফ্যাক্ট চেক (PIB Fact Check)। এক্স হ্যান্ডলে তাদের স্পষ্ট বার্তা, এই দাবি সম্পূর্ণ ভুয়ো। ভারত সরকার এই তিনটি সরকারি ব্যাংক একত্রীকরণের কোনও প্রস্তাবই অনুমোদন করেনি। সংস্থার তরফে আরও জানানো হয়, ছবিটি কোনও প্রকৃত সংবাদপত্রের প্রতিবেদন বা সরকারি বিবৃতি নয়, সম্পূর্ণ বানানো। ব্যাংক সংক্রান্ত যে কোনও তথ্যের জন্য একমাত্র সরকারি সূত্রের উপর নির্ভর করতে এবং শেয়ার করার আগে যাচাই করে নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে গ্রাহকদের।<blockquote class=”twitter-tweet”><p lang=”en” dir=”ltr”>An image circulating on social media platforms falsely claims that the Government has approved the merger of Punjab National Bank (PNB), Canara Bank, and State Bank of India (SBI).<a href=”https://x.com/hashtag/PIBFactCheck?src=hash&ref_src=twsrc%5Etfw”>#PIBFactCheck</a><br><br>❌ This claim is <a href=”https://x.com/hashtag/FAKE?src=hash&ref_src=twsrc%5Etfw”>#FAKE</a>.<br><br>✅ The Government of India has NOT approved any proposal… <a href=”https://t.co/0A7gJZznHT”>pic.twitter.com/0A7gJZznHT</a></p>— PIB Fact Check (@PIBFactCheck) <a href=”https://x.com/PIBFactCheck/status/2071582476464701441?ref_src=twsrc%5Etfw”>June 29, 2026</a></blockquote> <script async src=”https://platform.x.com/widgets.js” charset=”utf-8″></script>
প্রশ্ন হল, এই গুজব এত সহজে ছড়িয়ে পড়ল কেন? উত্তরটা লুকিয়ে আছে গত কয়েক মাস ধরে চলা একটি সত্যিকারের আলোচনায়। অর্থ মন্ত্রকের অন্দরে সরকারি ব্যাংকের সংখ্যা ১২ থেকে কমিয়ে চারে নিয়ে আসার একটি খসড়া পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে বলে একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সূত্রের খবর, এই পরিকল্পনায় চারটি মূল স্তম্ভ হতে পারে স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া, পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক, ব্যাংক অফ বরোদা (Bank of Baroda) এবং কানাড়া ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংকের (Union Bank of India) সংযুক্ত একটি নতুন সত্তা। অর্থাৎ কানাড়া ব্যাংক মিশতে পারে ইউনিয়ন ব্যাংকের সঙ্গে, এসবিআই বা পিএনবির সঙ্গে নয়। এই বিভ্রান্তি থেকেই সম্ভবত জন্ম নিয়েছে ভাইরাল গুজবটি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাংক, সেন্ট্রাল ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া, ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া এবং ব্যাংক অফ মহারাষ্ট্রের মতো মাঝারি মাপের ব্যাংকগুলিকেও মিশিয়ে দেওয়া হতে পারে বড় ব্যাংকগুলির সঙ্গে। পঞ্জাব অ্যান্ড সিন্ধ ব্যাংক নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সংসদে দেওয়া এক লিখিত উত্তরে কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, বর্তমানে সরকারি ব্যাংকের সংযুক্তিকরণ বা একত্রীকরণ নিয়ে কোনও প্রস্তাবই সরকারের বিবেচনাধীন নেই। অর্থাৎ আলোচনা যতই থাকুক, আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব এখনও তৈরি হয়নি।
এই প্যাটার্ন নতুন নয়। ২০১৭ সালে এসবিআইয়ের সঙ্গে মিশেছিল তার পাঁচটি সহযোগী ব্যাংক এবং ভারতীয় মহিলা ব্যাংক। ২০১৯ সালে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের সঙ্গে মেশে ওরিয়েন্টাল ব্যাংক অফ কমার্স এবং ইউনাইটেড ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া। ২০২০ সালে কানাড়া ব্যাংক অধিগ্রহণ করে সিন্ডিকেট ব্যাংককে, আর ইউনিয়ন ব্যাংকের সঙ্গে মেশে অন্ধ্র ব্যাংক ও কর্পোরেশন ব্যাংক। এই সব ধাপ মিলিয়েই সাতাশটি সরকারি ব্যাংক কমে দাঁড়িয়েছে বারোয়। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সম্প্রতি এসবিআইয়ের এক ব্যাংকিং সম্মেলনে মন্তব্য করেছিলেন, বড় পরিকাঠামো ও উৎপাদন প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য দেশের আরও বড় ও বিশ্বমানের ব্যাংক প্রয়োজন। সেই বক্তব্যকেই অনেকে নতুন একত্রীকরণ পর্বের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
তবে গ্রাহকদের জন্য আশ্বাসের কথা হল, কোনও ব্যাংক একত্রীকরণ হলেও সঞ্চয়, চলতি অ্যাকাউন্ট বা ফিক্সড ডিপোজিটে রাখা টাকা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকে। অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, আইএফএসসি কোড বা চেকবই বদলালেও তা আগাম জানিয়েই করা হয়। আপাতত এসবিআই, পিএনবি এবং কানাড়া ব্যাংক একত্রীকরণের যে দাবি ভাইরাল হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ ভুয়ো। তবে সরকারি ব্যাংক ক্ষেত্রে বড় কোনও রদবদলের সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার মতোও নয়।