আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য-সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার পর রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা নিয়ে ভারতের অবস্থান নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সূত্রের খবর, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা কিছুটা কমাতে পারে, তবে পুরোপুরি বন্ধ করবে না। পিটিআইকে উদ্ধৃত করে জানা যাচ্ছে, ভারতের কয়েকটি তেল শোধনাগারের কাছে বিকল্প সীমিত থাকায় এখনই সম্পূর্ণভাবে রুশ তেল আমদানি বন্ধ করা সম্ভব নয়।
সমঝোতার ঘোষণা পরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছে। যদিও ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলির সূত্র বলছে, এই বিষয়ে কোনও লিখিত নির্দেশিকা এখনও আসেনি। কেবল বেসরকারি ভাবে রুশ তেল কেনা কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সমঝোতার আগে যে সব চুক্তি করা হয়েছিল, সেগুলি বজায় রাখা হবে। তবে নতুন করে রাশিয়া থেকে তেল কেনার বরাত দেওয়া হবে না।
গত বছর আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার পরে এইচপিসিএল, এমআরপিএল এবং এইচপিসিএল-মিত্তল রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করেছিল। বিপিসিএল ও আইওসি ধাপে ধাপে আমদানি কমাবে বলে সূত্রের খবর। রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজ এক সময় তেল কেনা বন্ধ করলেও পরে তা ফের শুরু করে। তবে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল হাতে পাওয়ার পর তারাও আবার রুশ তেল আমদানি থামাতে পারে।
ব্যতিক্রম হতে পারে ন্যায়ারা এনার্জি। গুজরাতের এই শোধনাগারে রুশ সংস্থা রসনেফ্টের বড় অংশীদারি রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্রিটেনের নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা কার্যত বাধ্য হয়েই রাশিয়া থেকে তেল কিনছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩ সালের মে মাসে ভারত রাশিয়া থেকে দৈনিক ২১ লক্ষ ব্যারেল তেল কিনত। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তা নেমে আসে ১২ লক্ষ ব্যারেলে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে দৈনিক আমদানি কমে হয়েছে ১১ লক্ষ ব্যারেল। ফেব্রুয়ারিতে তা আরও কমতে পারে।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তাই সরকারের অগ্রাধিকার। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি অনুযায়ী তেলের উৎসে বৈচিত্র বজায় রাখাই ভারতের কৌশল। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহ রুশ তেল এলেও ভবিষ্যতে আমদানি আরও কমতে পারে, যদিও পুরোপুরি বন্ধ করা ভারতের পক্ষে সহজ হবে না।