বিশ্বে অশোধিত তেলের বাজারে স্থিতি আনতে রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয় অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনান্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ভারতকে রাশিয়ার তেল কেনার জন্য ৩০ দিনের একটি সাময়িক ছাড় দিয়েছে। তবে এই ছাড়ের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে—এটি শুধুমাত্র সেই তেলবাহী ট্যাঙ্কার বা জাহাজের জন্য প্রযোজ্য, যেগুলি যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সমুদ্রপথে আটকে রয়েছে। অর্থাৎ, সমুদ্রে আটকে থাকা রুশ তেল ভারত কিনতে পারবে, কিন্তু নতুন করে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির ক্ষেত্রে এই ছাড় প্রযোজ্য হবে না।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে মার্কিন অর্থসচিব স্কট বেসেন্ট জানান, ভারত আমেরিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী। তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের আবহে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। সেই চাপ কিছুটা কমাতেই এই অস্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের ধারণা, এই সীমিত ছাড়ের ফলে রাশিয়া খুব বেশি আর্থিক সুবিধা পাবে না।
উল্লেখ্য, আমেরিকা দীর্ঘদিন ধরেই মনে করে রাশিয়া তেল বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ ব্যবহার করছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে। এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধ চলাকালীন রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বাড়ানো নিয়ে ভারতের উপর চাপ সৃষ্টি করেছিল হোয়াইট হাউস। এমনকি এক সময় ভারতের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কও আরোপ করা হয়েছিল। পরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করেছে।
যদিও এই বিষয়ে দিল্লি আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানায়নি। বরং ভারতের তরফে এই বিষয়ে অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলা হয়েছে, জাতীয় স্বার্থই ভারতের বাণিজ্যনীতির প্রধান নির্ধারক। তেল কেনার ক্ষেত্রে একাধিক উৎস বজায় রাখা হবে। কোনও একটি দেশের কাছ থেকে তেল কেনার বাধ্যবাধকতা নেই দিল্লির।
এদিকে ইরান-ইজরায়েলের সংঘর্ষের পর পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মাঝখানে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ রপ্তানিযোগ্য তেল এই প্রণালী দিয়েই যাতায়াত করে। যুদ্ধের আশঙ্কায় প্রণালীর দু’পাশে বহু তেলবাহী জাহাজ ও ট্যাঙ্কার আটকে রয়েছে। ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশ এই পথ দিয়ে আসে। বর্তমানে সেখানে ভারতের ৩৭টি জাহাজও আটকে আছে।
এই পরিস্থিতিতে ভারত বিকল্প উপায়ে জ্বালানি আমদানির পথ খুঁজছে। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতীয় সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই লক্ষ লক্ষ ব্যারেল রুশ তেল কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, রাশিয়ার তেল কেনার অনুমতির জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে ভারতের পক্ষ থেকেই অনুরোধ জানানো হয়েছিল।