জাতীয় রাজনীতির অলিন্দে শোরগোল। ২৪, আকবর রোড (24 Akbar Road)… প্রায় পাঁচ দশক ধরে যে ঠিকানাটি ছিল দেশের সবচেয়ে পুরনো রাজনৈতিক দল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের (Indian National Congress) ক্ষমতার ভরকেন্দ্র, তা নিয়েই এবার বিস্ফোরক তথ্য সামনে এল। তথ্য জানার অধিকার আইন বা আরটিআই (RTI-Right to Information) আবেদনের জবাবে জানা গিয়েছে, ২০১৩ সাল থেকে কোনও বৈধ অনুমতি বা বরাদ্দ (Allotment) ছাড়াই দিল্লির এই বিলাসবহুল বাংলোটি দখল করে রেখেছে হাত শিবির। শুধু তাই নয়, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ওই ঠিকানার জন্য কোনও ভাড়াও দেওয়া হয়নি!
কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের (Union Ministry of Housing and Urban Affairs) অধীনস্থ ডিরেক্টরেট অফ এস্টেটস (Directorate of Estates)-এর তরফ থেকে দেওয়া এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।
২০১৩ সালেই বাতিল হয় লাইসেন্স, তবুও অনড়
সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী, ১৯৯২ সালের ৭ আগস্ট দিল্লির লুটিয়েন্স জোনের (Lutyens’ Delhi) এই হেভিওয়েট বাংলোটি অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির (AICC) সদর দফতর হিসেবে ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, নতুন দলীয় কার্যালয় তৈরির জন্য জমি পাওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পুরনো সরকারি বাংলো খালি করে দেওয়ার কথা। সেই নিয়ম মেনেই ২০১৩ সালের ২৬ জুন কংগ্রেসের নামে থাকা এই বাংলোর বরাদ্দ বাতিল (Allotment Cancelled) করে তৎকালীন ইউপিএ (UPA) সরকারই। কিন্তু তারপর থেকে গত ১৩ বছর ধরে কার্যত ‘অননুমোদিত দখলদার’ (Unauthorised Occupation) হিসেবেই ২৪, আকবর রোডের দখল নিজেদের হাতে রেখেছে কংগ্রেস।
আরটিআই রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
২০১৩ সালের ২৬ জুনের পর থেকে আজ পর্যন্ত ২৪, আকবর রোডের জন্য কোনো ভাড়া বা লাইসেন্স ফি (Licence Fee) জমা পড়েনি সরকারি কোষাগারে। বকেয়া টাকার পরিমাণ কত, তা খতিয়ে দেখছে (Under Review) কেন্দ্রীয় এস্টেট দফতর।
২০০ কোটির ‘ইন্দিরা ভবন’ তৈরি, তবু জবরদখল
রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, কেন এখনও আকবর রোডের মায়া ছাড়তে পারছে না সোনিয়া-রাহুলদের দল? গত বছরই দিল্লির কোটলা রোডে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হয়েছে কংগ্রেসের ঝাঁ-চকচকে নতুন সদর কার্যালয় ‘ইন্দিরা ভবন’ (Indira Bhavan)। তা সত্ত্বেও পুরোদমে আকবর রোড থেকেই দলের অধিকাংশ কাজকর্ম ও এআইসিসি-র সেলগুলির পরিচালনা করা হচ্ছে। এ বছরের মার্চ মাসেও কেন্দ্রের তরফ থেকে কংগ্রেসকে আকবর রোড এবং ৫, রাইসিনা রোডের যুব কংগ্রেসের (Youth Congress) দফতর খালি করার চূড়ান্ত নোটিশ (Eviction Notice) দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আইনি লড়াই ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার (Political Vendetta) পাল্টা তোপ দেগে এখনও সেই বাংলো আঁকড়ে রয়েছে দল।
নজরে বিজেপি-ও
এই আরটিআই রিপোর্টে শুধু কংগ্রেস নয়, বিজেপির পুরনো সদর দফতর ১১, অশোকা রোড (11 Ashoka Road) নিয়েও তথ্য চাওয়া হয়েছিল। রিপোর্টে স্পষ্ট করা হয়েছে, ১৯৮৫ সালে এই বাংলোটি বিজেপিকে দেওয়া হলেও বর্তমানে এটি লোকসভা সদস্যদের পুলের (Lok Sabha Members’ Pool) অংশ। সেখানেও বিজেপির কোনও বকেয়া পাওনা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে লোকসভা সচিবালয় (Lok Sabha Secretariat)। তবে কংগ্রেসের ক্ষেত্রে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে ভাড়া না দিয়ে প্রধান কার্যালয় আটকে রাখার এই ঘটনা স্বভাবতই ‘সুবিধাভোগী রাজনীতি’।
এখন প্রশ্ন, আইনি প্যাঁচে শেষ পর্যন্ত কি দিল্লির এই ঐতিহাসিক ঠিকানা ছাড়তে হবে কংগ্রেসকে? নাকি, রাজনৈতিক ডামাডোলের সুযোগে আরও কিছুদিন আকবর রোডের অলিন্দে ঘুরবেন রাহুল-সোনিয়ারা?