‘বন্দে মাতরম’-এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন বাধ্যতামূলক, কেন্দ্রের নির্দেশিকায় আপত্তি মুসলিম ল’ বোর্ডের

‘বন্দে মাতরম’ বাজলে এবার থেকে সকলকে উঠে দাঁড়িয়ে গানের প্রতি সম্মান জানাতে হবে— এমনই নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক, যার দায়িত্বে রয়েছেন অমিত শাহ। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। কেন্দ্রের এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেছে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সমস্ত সরকারি অনুষ্ঠান ও বিদ্যালয়ে জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’ পরিবেশনের পর ‘বন্দে মাতরম’ বাজাতে হবে। রাষ্ট্রপতি উপস্থিত থাকলে তাঁর আগমন ও প্রস্থানের সময়ও গানটি পরিবেশনের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি নাগরিক সম্মান প্রদান অনুষ্ঠানেও এই গান বাজানোর নির্দেশ রয়েছে। নির্দেশিকায় স্পষ্ট করা হয়েছে, ‘বন্দে মাতরম’-এর ছয়টি স্তবকই গাওয়া হবে।

কেন্দ্রের যুক্তি, নাগরিকদের মধ্যে দেশপ্রেম ও শৃঙ্খলাবোধ জাগ্রত করতেই এই পদক্ষেপ। তবে মুসলিম ল বোর্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই নির্দেশ অসাংবিধানিক এবং সংখ্যালঘুদের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। তাদের দাবি, গানটির কিছু স্তবকে দেবী বন্দনার কথা উল্লেখ রয়েছে, যা ইসলামী বিশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বোর্ডের মতে, এটি ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের সামিল।


বোর্ড আরও জানিয়েছে, বিষয়টি তারা আদালতে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। তাদের বক্তব্য, পূর্বে সুপ্রিম কোর্ট জাতীয় প্রতীকের প্রতি সম্মান দেখানো নিয়ে যে অবস্থান নিয়েছে, তার সঙ্গে এই নির্দেশিকার সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা বিচার্য। রাজনৈতিক মহলেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মতভেদ স্পষ্ট। বিরোধী শিবিরের একাংশের মতে, দেশপ্রেম ব্যক্তিগত অনুভূতি— তা প্রশাসনিক নির্দেশে আরোপ করা যায় না। অন্যদিকে কেন্দ্রের সমর্থকদের দাবি, জাতীয় প্রতীকের প্রতি সম্মান দেখানো প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য।

সব মিলিয়ে ‘বন্দে মাতরম’ ঘিরে নতুন করে জাতীয় রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আদালতের দরজা পর্যন্ত গড়ায় কি না, এখন সেটাই দেখার।