কপালে তিলক এঁকে দিলেই মাত্র তিন ঘণ্টা খেটে পকেটে আসবে মাসে ৭০ হাজার, ভিডিও দেখে তোলপাড়

AI দ্বারা নির্মিত

সন্ধে ঘনিয়ে আসলে ঋষিকেশের (Rishikesh) ত্রিবেণী ঘাটে (Triveni Ghat) মানুষের ঢল নামে। গঙ্গা আরতির (Ganga Aarti) দীপের আলোয় আলোকিত হয় নদীর বুক। সেই ভিড়ের মধ্যে একটি সরু টুলে বসে আছেন এক তরুণ। হাতে ছোট্ট বাটিতে চন্দন আর রোলি। পাশে একটা ছোট সাইনবোর্ড। প্রতিটি ভক্তের কপালে একটানে তিলক এঁকে দিচ্ছেন। বিনিময়ে নিচ্ছেন মাত্র দশ টাকা।

তিন ঘণ্টায় কত হল জানেন? ২,৩৫০ টাকা।

মাসে? সত্তর হাজার।


এই ভিডিও এখন সারা দেশে ভাইরাল।

যেভাবে শুরু হল এই ব্যবসা

ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেল @dhandhaonground প্রথম এই সামাজিক পরীক্ষাটা শুরু করে । একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর (Content Creator) মন্দিরের বাইরে বসে দেখতে চেয়েছিলেন, তিলক লাগিয়ে আদপেই রুটি-রুজির বন্দোবস্ত হয় কি না। বাজার থেকে রোলি আর চন্দন কিনলেন। পেস্ট বানালেন। হাতে ‘শ্রীরাম’ লিখে টুল পাতলেন।

ভক্তরা এলেন। তিলক নিলেন। দশ টাকা দিলেন। এক কাকু তো এতটাই খুশি হলেন যে সরাসরি একশো টাকার নোট বাড়িয়ে দিলেন।

দিনের শেষে হিসেব করতে বসলেন ওই ক্রিয়েটর। মোট আয়: দু হাজার টাকা। সেই হিসেব করে বললেন: মাসে ৬০ হাজার, বছরে ৭ লাখ ২০ হাজার।

ঋষিকেশের ঘাটে যিনি এই কাজকে পেশা বানিয়েছেন, তাঁর সংখ্যাটা আরও চমকপ্রদ। মাত্র তিন ঘণ্টার আরতির সময়টুকুতে আয় ২,৩৫০ টাকা। রাত হলে বাড়ি। সকালে আর উঠতে হয় না কর্পোরেট অফিসের জন্য।

কেন এই ভিড়?

ঋষিকেশে পর্যটকের সংখ্যা এখন রেকর্ডে। শুধু ২০২৫ সালেই উত্তরাখণ্ডে (Uttarakhand) এসেছেন ৬ কোটিরও বেশি পর্যটক। তার বড় অংশই এসেছেন গঙ্গা আরতি দেখতে। এই মুহূর্তে ভারতের আধ্যাত্মিক পর্যটন বাজারের (Spiritual Tourism) আকার ৭০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। দেশের মোট অভ্যন্তরীণ পর্যটনের ৬০ শতাংশই এখন ধর্মীয় গন্তব্যকেন্দ্রিক।

এই ভিড়ই হল ওই তরুণের ‘বাজার’। প্রতিদিন নতুন মুখ। প্রতিদিন নতুন গ্রাহক।

ভিডিও দেখুন

নেটদুনিয়ায় তোলপাড়

ভিডিওটা ছড়িয়ে পড়তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) একটাই হইচই: চাকরি ছেড়ে দেওয়া যায় কি?

কেউ লিখেছেন, ‘ভাই, আমার কর্পোরেট লোনটা শোধ করে দিলেই তো সোজা ঋষিকেশ।’ কেউ বলছেন, ‘উৎসবের দিনে হিসেব করুন তো! দীপাবলি বা মহাশিবরাত্রিতে এই ইনকাম কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে!’

আরেকজন লিখেছেন: ‘এই লোকটার না আছে ইএমআই (EMI), না আছে পারফরম্যান্স রিভিউ (Performance Review), না আছে বসের গালমন্দ। আমরা কারা বোকা?’

একজন বাস্তববাদী অবশ্য মনে করিয়ে দিয়েছেন: ‘রোজ ৩৫০ জনকে তিলক দিতে হয়। রাতে হাত ব্যথা করে কি না, সেটাও ভাবুন।’

একটা নতুন ‘অর্থনীতি

এই ঘটনাটা আসলে একটা বড় প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়। ভারতের তীর্থস্থান ঘিরে যে অর্থনীতি তৈরি হয়েছে, সেখানে সুযোগ কিন্তু অনেক। প্রসাদের দোকান, মালা, ফুল, তিলক, ছবি তোলা, ভিডিও গাইড। যে মানুষটি ক্রিয়েটিভ হতে পারছেন, চাহিদা বুঝতে পারছেন, সে-ই এই ভিড়কে কাজে লাগাচ্ছেন।

প্রতিদিন অফিসে গিয়ে লাখো মানুষ যা উপার্জন করেন, একটু সাহস আর বুদ্ধি দিয়ে সেটাই অর্জন করছেন ঘাটের পাশে বসে।

তিলকের দাম মাত্র দশ টাকা। কিন্তু সেই দশ টাকাতেই লুকিয়ে আছে একটা আস্ত মেধাবী জীবনের গল্প।