সন্ত্রাসবাদের মদতদাতাদের কাছে ভারত সিন্ধু নদীর জল পৌঁছতে দেবে না। শনিবার হায়দরাবাদে তেলেঙ্গানা বিজেপির এক সম্মেলনে অংশ নিয়ে একথা বললেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। এদিন তাঁর বক্তব্যে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রসঙ্গ উঠে আসে। তিনি বলেছেন, ‘ভারত বিশ্বকে দেখিয়েছে, যারা শান্তি ও সম্প্রীতির ভাষা বোঝে না, তাদের কীভাবে জবাব দিতে হয়। যাদের চোখের জল শুকিয়ে গিয়েছে এবং যারা সন্ত্রাসে যুক্ত, তাদের জন্য ভারতের জলসম্পদ উন্মুক্ত থাকবে না।’ তাঁর দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় জলও এখন প্রতিষেধক এবং কৌশলগত হাতিয়ার।
পহেলগামে গত বছরের ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদী হামলা গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। সেই হামলার পর ভারত জানায়, একটি সার্বভৌম দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক আইনের অধিকার ব্যবহার করে ভারত সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত রাখছে। ভারত সাফ জানিয়েছে, পাকিস্তান যদি আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করা বন্ধ না করে এবং সেই নীতি স্থায়ীভাবে পরিবর্তন না করে, তাহলে এই চুক্তি কার্যকর থাকবে না।
পহেলগামের পর থেকে এখনও পর্যন্ত ভারতের বার্তা একই। ভারত মনে করে, বাস্তব পরিস্থিতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে চুক্তি কার্যকর হতে পারে না। ফলে পাকিস্তান যতক্ষণ না দিল্লির ভাষায় ‘অস্বাভাবিক বৈরিতা’র সমাধান করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত জলবণ্টন চুক্তিও স্থগিত থাকবে।রাজনাথ সিং এদিন তাঁর বক্তব্যে পহেলগাম হামলার পর নেওয়া ভারতের অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আগেই বলেছিলেন, রক্ত ও জল একসঙ্গে বইতে পারে না।’
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আরও বলেন, ‘সরকার আগেই ঘোষণা করেছিল ভারতের মাটিতে সন্ত্রাসবাদী হামলা চালানো হলে পাকিস্তানের শস্য এবং জল সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে।’ এই নীতিই এখন বাস্তব রূপ নিয়েছে। ১৯৬০ সালের সিন্ধু জল চুক্তি অনুযায়ী পূর্বের শতদ্রু, বিপাশা ও ইরাবতীর জল ভারতের এবং পশ্চিমের সিন্ধু, চন্দ্রভাগা ও বিতস্তার জল পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ভারত চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর থেকেই পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মঞ্চে আপত্তি জানিয়ে আসছে। কিন্তু তাতে কোনও ফল হয়নি।
এই কর্মসূচিতে তিনি এনডিএ সরকারের গত ১২ বছরের সাফল্যও তুলে ধরেন। রাজনাথ সিংয়ের মতে, এই সময়ে সংবিধানের ৩৭০ ধারা রদ করা হয়েছে। দেশ মাওবাদী প্রভাবমুক্ত হওয়ার পথে এগিয়েছে। জিএসটি চালু হয়েছে এবং বিদ্যুতায়ন ও বিভিন্ন প্রশাসনিক সংস্কার হয়েছে। এর পাশাপাশি কাশ্মীরে পর্যটন ও স্বাভাবিক জীবন ফিরছে বলেও তিনি দাবি করেন। একসময় সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত কাশ্মীরে এখন পর্যটন, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ছে বলেও তিনি দাবি করেছেন।
অন্যদিকে, পাকিস্তান সতর্ক করে জানিয়েছে, জলপ্রবাহ সীমিত করার যেকোনও পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে। এটিকে ‘যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি’ হিসেবেও দেখা হতে পারে। তাদের মতে, এমন পদক্ষেপ ১৯৬০ সালের সিন্ধু জলচুক্তি লঙ্ঘন করবে এবং প্রায় ২৫ কোটিরও বেশি মানুষের জীবন ও জীবিকার উপরে বড় ধরনের ঝুঁকি ডেকে আনবে।