আসারামের যাবজ্জীবন বহাল, পকসোর কয়েকটি ধারা থেকে অব্যাহতি দিল রাজস্থান হাইকোর্ট

ফাইল চিত্র

যৌন নির্যাতন মামলায় স্বঘোষিত ধর্মগুরু আসারাম বাপু ওরফে অসুমালের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখল রাজস্থান হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি অরুণ কুমার মোঙ্গা এবং বিচারপতি যোগেন্দ্র কুমার পুরোহিতের ডিভিশন বেঞ্চ তাঁর করা আপিলের রায় ঘোষণা করে। আদালত আসারামকে সম্পূর্ণ নির্দোষ ঘোষণা না করলেও, পকসো আইনের কিছু জামিন অযোগ্য ধারা এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির গণধর্ষণ ও ষড়যন্ত্র সংক্রান্ত অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। তবে ধর্ষণ, পকসো আইনে যৌন নির্যাতন-সহ একাধিক গুরুতর ধারায় নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখা হয়েছে। ফলে তাঁর যাবজ্জীবন সাজা বহালই থাকছে।
একই সঙ্গে আদালত আসারামের সঙ্গে অভিযুক্ত ২ অনুগামী শরৎচন্দ্র এবং শিল্পীকে মুক্তি দিয়েছে। নির্যাতিতার আইনজীবী পিসি সোলাঙ্কি জানান, আদালত সাজার উপর কোনও স্থগিতাদেশ দেয়নি। তাঁর কথায়, ‘যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রয়েছে, যদিও কিছু ধারায় স্বস্তি দেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি হাতে পাওয়ার পর নির্যাতিতার সঙ্গে আলোচনা করে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এই রায়ের ফলে বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে বাইরে থাকা আসারামকে ফের জেলে আত্মসমর্পণ করতে হবে। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ২৫ এপ্রিল যোধপুরের বিশেষ পকসো আদালত এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে আসারামকে বাকি জীবন কারাবাসের নির্দেশ দিয়েছিল। একই মামলায় শরৎচন্দ্র ও শিল্পীকে ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। সেই রায়ের বিরুদ্ধেই রাজস্থান হাইকোর্টে আপিল করেছিলেন তিন জন।

গত ২০ এপ্রিল এই মামলার শুনানি শেষ হয়। আসারামের পক্ষে আইনজীবী দেবদত্ত কামাত এবং দীপক মেনারিয়া সওয়াল করেন। রাজ্যের পক্ষে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল দীপক চৌধুরী এবং নির্যাতিতার আইনজীবী পিসি সোলাঙ্কি আদালতে বক্তব্য রাখেন। সব পক্ষের সওয়াল শোনার পর আদালত রায় স্থগিত রেখেছিল।

২০১৮ সালে সাজা ঘোষণার পর থেকেই যোধপুর জেলে ছিলেন আসারাম। কেবল চিকিৎসার কারণে তাঁকে বাইরে আনা হত। দীর্ঘদিন ধরে হাইকোর্ট, নিম্ন আদালত এবং সুপ্রিম কোর্টে একাধিকবার জামিনের আবেদন জানানো হলেও ২০২৪ সালের আগে তাতে সাড়া মেলেনি। অবশেষে ২০২৪ সালের মার্চে চিকিৎসার জন্য তাঁকে প্রথম ১০ দিনের অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়া হয়। এরপর দফায় দফায় সেই জামিনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। সম্প্রতি তাঁর অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের মেয়াদ আগামী ৭ জুলাই পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।