বৃষ্টি, রিল আর সংসদ! সায়নী ঘোষকে ঘিরে শুরু জোর চর্চা

রিলে মগ্ন সায়নী PIC- SOCIAL MEDIA

সংসদের ভেতরে তখন নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষাব্যবস্থার নানা জালিয়াতি নিয়ে সরকারের উপরে কার্যত চড়াও হয়েছে বিরোধীরা। সেই মুহূর্তে এক অন্যরকম ছবির সাক্ষী হল দিল্লির সংসদ ভবন। অধিবেশন চলাকালীন মুষলধারে বৃষ্টি উপভোগ করে রিল বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করলেন যাদবপুরের সাংসদ অভিনেত্রী সায়নী ঘোষ। আর তা ভাইরাল হতেই শোরগোল শুরু নেটপাড়ায়।

সংসদে চলছে বাদল অধিবেশন। সেখানে অংশ নিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বিদ্রোহ করে চলে আসা এনসিপিআই সাংসদরাও। এখনও স্বীকৃতি না মিললেও, সর্বদলীয় বৈঠক ও এনডিএ-র বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন বিদ্রোহী ২০ সাংসদ। তার মাঝেই অন্য রূপে ধরা দিলেন যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ।

সংসদের বাদল অধিবেশন চলাকালীন মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে বের হয়েছিলেন সায়নী। ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে বিখ্যাত ‘তাল’ সিনেমার গান ‘নহি সামনে তু’-এর সুরে তৈরি করেন  এক মিষ্টি ভিডিও। নিজের ইন্সটাগ্রামে সেই ভিডিও শেয়ার করে ক্যাপশন লেখেন “দূর তাক ছায়ে থে বাদল ঔর কাহি সায়া না থা, ইস তারাহ বারসাত কা মৌসম কাভি আয়া না থা”। হ্যাশট্যাগে যুক্ত করেন ‘মনসুন সেশন’ এবং ‘বারিশ ব্রেক অ্যাট লাঞ্চ’। মুহূর্তের মধ্যে ভিডিয়োটির ভিউ ছাড়িয়ে যায় লাখ লাখের ঘর।

ভিডিওটি ভাইরাল হতেই শুরু হয় নেটিজেনদের আক্রমণ।  সাধারণ মানুষ ও বিরোধীদের বক্তব্য দেশে যখন তরুণ পড়ুয়াদের অন্ধকার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত, তখন দায়িত্বশীল সাংসদের এমন আচরণ শোভা পায় না। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই লিখেছেন,  “জনগণ কি ট্যাক্সের টাকায় মাইনে দিয়ে রিল বানানোর জন্য প্রতিনিধি নির্বাচন করেছে?” কেউ কেউ আবার রাজনীতি বদলে মোদী সরকারের ‘জেন-জি’ রিল কালচারের তোপ দাগিয়ে সায়নীকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি।

যদিও অনুগামীরা সমর্থন করেছেন সায়নীকেই। তাঁদের মতে, কাজের ফাঁকে সামান্য বিরতি নিয়ে নিজের মতো কিছুটা সময় কাটানো বা মানসিক প্রশান্তি খোঁজা অপরাধ হতে পারে না। তবে সমালোচকদের পাল্টা যুক্তি— ব্যক্তিগত জীবন ও সাংসদ হিসেবে জাতীয় কর্তব্যের মাঝে একটা স্পষ্ট সীমারেখা থাকা উচিত। সাংসদ হওয়ার পাশাপাশি সায়নী এখনও তাঁর ‘অভিনেত্রী’ সত্ত্বাকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখতে পারেননি বলেই এই বিপত্তি। তবে এই মুহূর্তে তিনি এনসিপিআই দলের হয়ে রয়েছেন। কারণ তৃণমূল হেরে যাওয়ার পরে দলের বিরুদ্ধে যে সকল সাংসদ গিয়েছিলেন তার মধ্যে সায়নী ঘোষ ছিলেন অন্যতম।