সময়ের আগেই কেরলে বর্ষার সম্ভাবনা, পশ্চিমবঙ্গে জুনের প্রথম সপ্তাহেই বৃষ্টির ইঙ্গিত

দেশে এবার দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু নির্ধারিত সময়ের আগেই ঢুকতে পারে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় মৌসম ভবন বা আইএমডি। সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরে কেরল উপকূলে বর্ষা ২৬ মে’র আশেপাশে ঢুকতে পারে। সাধারণত ১ জুন বা তার আশেপাশে কেরলে মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করে থাকে।এবার প্রায় এক সপ্তাহ আগেই বর্ষা ঢোকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

আইএমডি সূত্রে জানা গিয়েছে, আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে ইতিমধ্যেই মৌসুমি বায়ুর অগ্রগতির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই সেখানে বর্ষা ঢুকে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে

আবহাওয়ার এই ইতিবাচক ছবির মধ্যেও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এল নিনো পরিস্থিতি। প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়লে এল নিনো তৈরি হয়, যা সাধারণত মৌসুমি বায়ুকে দুর্বল করে দেয় এবং বৃষ্টিপাতে ঘাটতি ঘটাতে পারে। সাধারণভাবে প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ সামুদ্রিক স্রোত বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে নিম্নচাপ তৈরিতে বাধা দেয়, যা স্বাভাবিক বর্ষার গতি কমিয়ে দেয়।


ভারতে সাধারণত ১ জুনের মধ্যে কেরলে বর্ষা ঢোকে এবং এরপর ধাপে ধাপে উত্তর ও পূর্ব ভারতের দিকে অগ্রসর হয়। সাধারণত কেরলে প্রবেশের প্রায় ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা আসে। বর্ষা দেশের কৃষি অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হওয়ায় এর সময়সূচি ও বৃষ্টির পরিমাণ ভারতের মতো দেশের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, মে থেকে জুলাইয়ের মধ্যে ফের এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে, এমন পূর্বাভাস রয়েছে।

তবে আবহাওয়াবিদদের একাংশ মনে করছেন, অতীতে বহুবার এল নিনোর উপস্থিতি সত্ত্বেও ভারতে স্বাভাবিক বা প্রায় স্বাভাবিক বর্ষা হয়েছে। ফলে এবারও পরিস্থিতি পুরোপুরি নেতিবাচক হবে, এমন নিশ্চিত সিদ্ধান্তে আসা যাচ্ছে না।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, এবার পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণাংশে, বিশেষ করে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে বর্ষা জুনের ৮ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে প্রবেশ করতে পারে। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন অংশে এই বৃষ্টি ধাপে ধাপে বিস্তার লাভ করবে। এর ফলে রাজ্যে  যে তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি চলছে তা থেকে স্বস্তি মিলতে পারে।

আগাম বর্ষার সম্ভাবনায় কৃষি মহলে স্বস্তি নিঃশ্বাস। সময়ের আগে বৃষ্টি শুরু হলে ধান-সহ খরিফ মরশুমের ফসলের প্রস্তুতি দ্রুত শুরু করা যায়। মাটির আর্দ্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বীজতলা তৈরি এবং চাষের পরিকল্পনাও সহজ হয়। তবে অতিরিক্ত বা অনিয়মিত বৃষ্টিপাত হলে ক্ষতির আশঙ্কাও থাকে বলে সতর্ক করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা ।

সব মিলিয়ে বলা যায়, কেরলে আগাম বর্ষার সম্ভাবনা যেমন আশার ইঙ্গিত দিচ্ছে, তেমনই এল নিনোর অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে কিছুটা জটিল করে রেখেছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের আবহাওয়ার পূর্বাভাসেই স্পষ্ট হবে এ বছর বর্ষা কতটা স্বাভাবিকভাবে এগোয়।