রামমন্দিরে অনুদান চুরির ঘটনায় অভিযুক্তের বাড়িতে তল্লাশি, মিলল গুরুত্বপূর্ণ নথি

Photo: file photo

অযোধ্যার রামমন্দিরে অনুদান তছরুপের ঘটনার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততোই উঠে আসছে বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর তথ্য। এবার এই ঘটনার তদন্তে বড়সড় অগ্রগতি হয়েছে। পুলিশি হেফাজতে থাকা এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত রামাশঙ্কর মিশ্রকে সঙ্গে নিয়ে অযোধ্যায় তাঁর ভাড়া বাড়িতে তল্লাশি চালায় তদন্তকারী দল। সূত্রের খবর, ওই বাড়ি থেকে একটি ব্যাগে রাখা জমি-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে ওই ঘরটি সিল করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজও পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া নথিগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এগুলির সঙ্গে দান তছরুপ মামলার কোনও যোগ রয়েছে কি না, তাও যাচাই করা হবে। অভিযোগ, তছরুপ হওয়া অর্থ দিয়ে অভিযুক্তরা জমি কেনাতে না কি অন্য কোনও জায়গায় বিনিয়োগ করেছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পাশাপাশি পুলিশি হেফাজতে থাকা অপর অভিযুক্ত সুভাষ শ্রীবাস্তবের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন জায়গাতেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সেখান থেকেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও অন্যান্য সামগ্রী পরীক্ষা করা হয়েছে বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে।


তদন্তকারী সংস্থার দাবি, উদ্ধার হওয়া নথিপত্র যাচাইয়ের পরে যদি বেআইনি সম্পত্তি বা সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়ায় যায়, তাহলে তা মামলার নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার রামাশঙ্কর মিশ্র ও সুভাষ শ্রীবাস্তবকে ১৪ ঘণ্টার পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এর আগে এই মামলায় অভিযুক্ত অবিনাশ শুক্ল, অনুকল্প মিশ্র, লাভকুশ মিশ্র ও করুণেশ পাণ্ডেকে আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তে তাঁদের সন্দেহভাজন দুটি চারচাকা গাড়ি, নগদ অর্থ, সোনা এবং বিনিয়োগ-সংক্রান্ত নথি উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, আত্মসাৎ করা অর্থের একটি অংশ সুদে টাকা ধার দেওয়া ও শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, গত জুন মাসে রামমন্দিরের দানের অর্থ তছরুপের অভিযোগ সামনে আসে। এরপর ১৩ জুন উত্তরপ্রদেশ সরকার একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে। প্রাথমিক রিপোর্ট জমা পড়ার পর ২৫ জুন এফআইআর দায়ের হয়। মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

তদন্তে বিভিন্ন অভিযুক্তের কাছ থেকে নগদ অর্থ, সোনা-রুপো, বিদেশি মুদ্রা ও একটি দানবাক্স উদ্ধার হয়েছে। অবিনাশ শুক্লের কাছ থেকে সর্বাধিক ২০.৩৯ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।